কোরবানির জন্য উৎপাদিত ফ্রিজিয়াম জাতের বিশালাকৃতির গরু শেষ সময়েও বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন পাবনার খামারিরা। বেশি দাম হওয়ায় মিলছে না ক্রেতা।
পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের মোল্লা খামারের মালিক আব্দুল ওয়াদুদ সবুজিএকটি গরু দেখিয়ে জানান, প্রায় ৩ বছর আগে ব্র্যাকের হলেসটাইন ফ্রিজিয়াম জাতের গরুর বীজ থেকে এর উৎপাদন। বৃহস্পতিবারে তার জন্ম হওয়ায় আমার মা তার নাম রাখে বিশু। ৫০ মণ ওজনের এই গরুটির দাম আমি সাড়ে ১৩ লাখ টাকা চেয়েছি। আশানুরূপ দাম এখনও কেউ বলেনি। তবে এই বিশালাকৃতির গরুটি বিক্রি করা আমার খুব প্রয়োজন। এছাড়া আমার খামারে ছোট বড় ষাঁড়, গাভীসহ প্রায় ২৬টি গরু রয়েছে।
জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট গুয়াখড়া গ্রামের খামারি মিনারুল বলেন, ‘দেড় বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী বন্ধুর ১৫-১৬ মণ ওজনের গরু কিনে নিজের খামারে মোটাতাজাকরণ শুরু করি। তখন তার নাম রাখা হয় টাইগার। এখন ৪২ মণ এই গরুটির দাম আমি ২৫ লাখ টাকা চেয়েছি। গরুটি নিজ জেলায় বিক্রি করতে না পেরে ঢাকার মোহাম্মদপুর কোরবানির পশুর হাটে তুলেছি। এখন পর্যন্ত এই গরুটি নেওয়ার মতো কেউ দাম বলে নাই।’
পাবনার সুজানগরের পৌর এলাকার ভবানীপুরের (প্রফেসর পাড়া) ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ী ও খামারি আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, আমার নিজ খামারে প্রায় ২ বছর ৭ মাস আগে ফ্রিজিয়াম জাতের এই গরু জন্ম নেয়। নাম দিয়েছিলাম ‘বাহাদুর’। ২২ মণ ওজনের গরুর দাম চাচ্ছি ১১ লাখ টাকা। এই দামে গরু বিক্রি করতে পারলে ক্রেতাকে খুশি হয়ে বিশেষ উপহার দিতে চেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত গরুটি বিক্রি করতে পারিনি।
পাবনা জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন জানান, পাবনা জেলায় এবার কোরবানির জন্য ২০ হাজার ৬৭৩ খামারি গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ মিলিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার পশু প্রস্তুত করেছিল। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পশু সরবরাহ করা হয়। এই পশুগুলো খামারিরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছিল। কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিক বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি।
এদিকে খামারিরা জানান, দেশীয় পদ্ধতি খৈল, ভুষি, খড়, ঘাস দিয়ে গরু মোটাতাজা করলে অনেক খরচ হয়। আর বড় গরু খামারে রাখলেও খরচ অনেক। যদি এসব গরু আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পেরে খামারে ফিরিয়ে নিয়ে যাই, তবে খামারের খরচও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। তাহলে বড় গরু উৎপাদন করতেও নিরুৎসাহিত হবে খামারিরা।








