খুলনা জিআরপি থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার ভিকটিমকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সোমবার বিকালে এ জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়। তবে কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম নতুন কোনও তথ্য দেননি। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টও তদন্ত কর্মকর্তারা এখনও হাতে পাননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘ভিকটিমকে সোমবার বিকালে খুলনা জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নতুন কোনও তথ্য দেননি। মামলার অভিযোগে যা যা বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদেও ওই একই তথ্য দিয়েছেন। আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত রেখেছি।’ তিনি আরও জানান, এ মামলায় ভিকটিমের মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে শুনানি না হওয়ায় তারা মেডিক্যাল রিপোর্ট পাননি। এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে ওই রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট তার কাছ থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ফুলতলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির জন্য ভিকটিমকে হাজির করা হয়। এসময় জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ভিকটিম। তিনি বলেন, ওসি উছমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করে। ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশি নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৪ আগস্ট ভিকটিমকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের আদালতে আবেদন করেন। আদালতে ১৯ আগস্ট শুনানি শেষে ১০দিনের মধ্যে ভিকটিমকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেন।








