নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ দুজনের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ রেজাউল করিম ও হিসাবরক্ষক রায়হান কবীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘এসিল্যান্ডকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদন জমা দেবে তদন্ত কমিটি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কলেজের উপাধ্যক্ষ নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৮৭ জন। এছাড়া শিক্ষক ৩১ জন এবং কর্মচারী ১০ জন। প্লে, নার্সারি ও কেজির শিক্ষার্থীদের বেতন মাসে ৪৫০ টাকা, প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বেতন ৫০০ টাকা ও পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির বেতন ৫৫০ টাকা। সিই হিসেবে প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে বেতন আদায় হয় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এরমধ্য থেকে প্রতিমাসে ৪১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দিতে হয় প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যালয় ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয় মাসে ২০ হাজার টাকা। প্রতি বছর সেশন ও ভর্তি ফি থেকে আসে ১৫ লাখ টাকা এবং বছরে তিন বার পরীক্ষা থেকে আয় হয় ৬ লাখ টাকা। শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু ২০১৮ সালের জুলাই মাস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়ে। বেতনের জন্য শিক্ষকরা বার বার অধ্যক্ষ রেজাউল করিমকে তাগাদা দিলেও ছাত্ররা ঠিকমতো বেতন দিচ্ছে না বলে তিনি জানান। ডিসেম্বর মাসে আবারও বেতনের জন্য শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশের জন্য চাপ দিলে অধ্যক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।’
পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিগতউপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমানকে বিষয়টি আমরা অবগত করি। বিষয়টি নিয়ে সেসময় তিনি কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।’
যুক্তিবিদ্যার প্রভাষক নাছরিন আরা বলেন, ‘ছাত্ররা নিয়মিত বেতন দেয় কিনা তা নিয়ে আমরা শিক্ষকরা খোঁজ নেই। আমরা জানতে পারি, ছাত্ররা নিয়মিত বেতন পরিশোধ করছে, কিন্তু অধ্যক্ষ বেতন বকেয়া দেখাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে নতুন ইউএনও হিসেবে ছানাউল ইসলাম যোগদান করলে অর্থআত্মসাতের অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ ও হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ইউএনও অভিযোগটি আমলে নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ বছরের ২ জুলাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি সভার সিদ্ধান্তে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক রায়হান কবীর বলেন, ‘স্যারেরা বিষয়টি সব জানেন।’
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, ‘এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। প্রতিষ্ঠানে আমি যোগদানের পর থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। একটি মহল এটা নিয়ে শিক্ষকদের উস্কিয়ে দিয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবেন। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন।’








