রাষ্ট্রপক্ষের আপিলেও হাইকোর্ট জামিন বহাল রাখায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মুক্তিতে আর কোনও আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে দাফতরিক কাজ শেষে আগামী বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) নাগাদ মিন্নি মুক্তি পেতে পারেন। তবে সবটাই হাইকোর্টের রায়ের কপি পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করছে। মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম এই তথ্য জানান।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মিন্নির জামিন আদেশ দেন। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনের ওপর নো-অর্ডার (কোনও আদেশ নয়) দেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। এর ফলে মিন্নির জামিনের মুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন।
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জানান, ‘হাইকোর্টে মিন্নির জামিন আদেশের স্বাক্ষরিত একটি কপি ডাক যোগে বরগুনার আদালতে পাঠানো হবে। রায়ের স্বাক্ষরিত কপি আদালতে পৌঁছালে আমরা মিন্নির পক্ষে জামানতনামা(বেলবন্ড) দাখিলের আবেদন করবো। আদালতের বিচারক জামানতনামা গ্রহণ করে জেল কর্তৃপক্ষকে রিলিজ অর্ডার পাঠাবেন। রিলিজ অর্ডার জেল কর্তৃপক্ষ পাওয়া মাত্রই মিন্নিকে মুক্তি দেওয়া হবে। দাফতরিক কাজ শেষ হতে হতে বুধবার নাগাদ মিন্নি জামিন পেতে পারেন। তবে সবটাই নির্ভর করছে হাইকোর্টের রায়ের কপি বরগুনার আদালতে পৌঁছানোর ওপর।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টে জামিনের পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে আপিল করলেও আদালত মিন্নির জামিন বহাল রেখেছেন। এখন মিন্নিকে মুক্ত করা শুধু সময়ের বিষয়।’ তবে আদালত চাইলে যে কোনও সময় যেকোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও তিনি জানান।
পুলিশের চার্জশিটে মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিহত রিফাত শরীফের বাবা বরগুনা সদর থানায় যখন হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন তখন মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী রাখা হয়েছিলো। দুলাল শরীফের দায়ের করা মামলায় উল্লেখ আছে তিনি মারা যাওয়ার আগে রিফাতের মুখের কথা অনুযায়ী আসামি দিয়েছিলেন। সেখানে রিফাত তার ডায়িং ডিক্লারেশনের কোথাও মিন্নিকে সন্দেহ করেন নাই। অথচ এখন মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে চার্জশিট হাতে পেলে আমরা আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’
চেম্বার আদালতেও মিন্নির জামিন বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমার নির্দোষ মেয়ের প্রতি ন্যায় বিচার করেছে। তাই হাইকোর্টের পর চেম্বার আদালতেও আমার মেয়ের জামিন বহাল রয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।’
মিন্নির মুক্তির বিষয়ে বরগুনার জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে রিলিজ অর্ডার পেলেই আমরা মিন্নিকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্তি দিবো।’
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একই দিন রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। পরে একই মামলায় জামিন চেয়ে মিন্নি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন-
মিন্নির মুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই








