রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ধিত ফি ও সান্ধ্য কোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে করা মামলায় সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার এ রায় দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজী শওকত সালেহীন বলেন, ‘মামলার দুর্বল সাক্ষীর কারণে আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়েছে। বাদীপক্ষের ২২ জন সাক্ষী ছিলেন। তার মধ্যে শুধু বাদী মামলার পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন। বাকি ২১ জনই মামলার পক্ষে আদালতে শক্তভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেননি। এজন্য বিচারক চার্জশিটে অভিযুক্তদের খালাস দিয়েছেন।’
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
এদিকে রায় প্রকাশের পর সন্তোষ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর তৎকালীন সভাপতি ও এ মামলার অন্যতম আসামি প্রদীপ মার্ডি বলেন, ‘আদালতের রায়কে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের আন্দোলন যুক্তিসঙ্গত।’
সান্ধ্য কোর্স ও বর্ধিত ফি বাতিলের আন্দোলনের রেশ এখনও রয়েছে উল্লেখ করে প্রদীপ মার্ডি বলেন, ‘এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে নামে-বেনামে বর্ধিত ফি আদায় করা হচ্ছে। বহাল রয়েছে সান্ধ্য কোর্স।’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল দাবিতে আন্দোলনকারী কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলে ভাঙচুর চালান।
ঘটনার পরদিন নগরীর মতিহার থানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও ছাত্রলীগ পৃথকভাবে দুটি করে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় ১০৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৭৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ছাত্রলীগ তাদের দুটি মামলা তুলে নেয়। তবে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়েরকৃত দুটি করে চারটি মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ১৬ নেতাকর্মী, রাবি শাখা ছাত্র শিবিরের তৎকালীন সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ডিলস এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২৯ মে আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। মামলায় বাদীপক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করা হয়।








