নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের প্রয়াত (জাপা-এরশাদ) সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অফিসে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর আল্লামা ইকবাল সড়কে অবস্থিত দেওয়ান মঞ্জিলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার বাচ্চু মিয়ার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আজমেরী ওসমান ও তার সহযোগীরা। এ ব্যাপারে ঠিকাদার বাচ্চু মিয়া নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে আজমেরী ওসমানের অফিসে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন রুপু ও মোখলেছুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও পুলিশ জানান, রাত সোয়া ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায় আজমেরী ওসমানের অফিসে। অভিযানের শুরুতে ডিবি পুলিশের গাড়ি আল্লামা ইকবাল রোডের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়, যাতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে না পারে।
সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাতে শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাচ্চু ঠিকাদারের কাছে আজমেরী ওসমান ও তার সহযোগীরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বৃহস্পতিবার রাতে আজমেরী ওসমানের সহযোগীরা ঠিকাদার বাচ্চু মিয়াকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলায়। এ সময় সে যেতে না চাইলে আজমেরী ওসমানের লোকজন তাকে মারধর ধরে। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ঠিকাদার বাচ্চু মিয়া। ওই অভিযোগের পর আজমেরী ওসমানের দেওয়ান মঞ্জিলের অফিসে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে সিসি টিভি ক্যামেরায় পুলিশের তৎপরতা দেখে আগেই অফিস থেকে সরে পড়েন আজমেরী ওসমান।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ঠিকাদার বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের ওই মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
মামলায় আর কাকে আসামি করা হয়েছে এমন প্রশ্নে ওসি জানান, তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে বাধা আসতে পারে বলে অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।








