পাট চাষ করে লোকসানের মুখে কৃষক

তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ
০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৫আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৪

শুকানো হচ্ছে পাট

এবার পাট চাষ করে বিপাকে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা। বাজারে পাটের যে দর, তাতে লাভ হচ্ছে না তাদের। পাট বিক্রি করে কোনোমতে খরচ ওঠানো যাচ্ছে। লাভ বলতে থাকছে শুধু পাটখড়ি। কারও কারও সে লাভটিও থাকছে না। লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিমণ পাটে শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ পড়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। মণপ্রতি একই দামে পাট বিক্রি করছে কৃষকরা। সরকারিভাবে পাট না কেনায় স্থানীয় পাইকারদের  কাছে ১৫শ’ থেকে ১৫৫০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করতে হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে কৃষকদের কোনও লাভ থাকছে না।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ টংগিবাড়ী উপজেলার বলই গ্রামের কৃষক মহব্বত খান প্রতি বছর ১৬ গণ্ডা জমিতে পাট চাষ করেন। তবে এবার ১০ গণ্ডা জমিতে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাট চাষ করে লাভ বলতে সেই পাটখড়ি। কারণ, প্রতিমণ পাট চাষে যে টাকা খরচ হয়, তাতে ১৫শ’ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করে কোনও লাভ নেই। আমার ৪০ মণ পাটের মাত্র ৪ মণ ১৯শ’ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। এখন পাইকার ব্যবসায়ীরা ১৫শ’ টাকা বলছে। তাই বিক্রি করিনি।’

সিরাজদিখান উপজেলার কৃষক রহমত মিয়া বলেন, ‘পাটের দাম কম। গত তিন মাস পাট চাষে যে শ্রম দিয়েছি, তা বিফলে গেছে। এত কম দামে পাট বিক্রি করে পোষায় না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় দেশি পাট আবাদ হয়েছে ৪৮৭ হেক্টর ও তোষা পাট ২১ হেক্টর। টংগিবাড়ি উপজেলায় দেশি পাট ৪৭৫ হেক্টর ও তোষা পাট ২৬০ হেক্টর। শ্রীনগর উপজেলায় দেশি পাট আবাদ হয়েছে ৪০ হেক্টর ও তোষা পাট ২৫ হেক্টর। সিরাজদিখান উপজেলায় দেশি পাট আবাদ হয়েছে ১৫০ হেক্টর ও তোষা পাট ১ হাজার ৫৮০ হেক্টর। লৌহজং উপজেলায় দেশি পাট আবাদ হয়েছে ২৫০ হেক্টর ও তোষা পাট ৭০ হেক্টর। গজারিয়া উপজেলায় দেশি পাট আবাদ হয়েছে ২০৫ হেক্টর।

জানা যায়, পাটের আবাদ নির্ভর করে বৃষ্টিপাতের ওপর। এবছর পাট চাষ শুরুর সময় বৃষ্টিপাত কম হয়েছিল। যেকারণে গত বছরের চেয়ে পাট কম হয়েছে। কিন্তু পাট চাষের ধারাবাহিকতা ঠিকই আছে। দেশি সিবি-১, সিবি-৩ এবং তোষা-৯৮, ৯৭ জাতের পাট জেলায় চাষ হয়ে থাকে। পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে ও এবার পাটে কোনও পোকার উপদ্রব নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল হাসান জানান, প্রতিমণ পাটে কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় ১৫শ’ টাকা। এখন পাটের যে দাম, তাতে কৃষকের লাভ থাকছে না।

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে চাষিদের থেকে পাট কেনার কোনও ব্যবস্থা নেই। আমরা শুধু অল্প পানিতে পাট পচানোর জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাট চাষের বীজ প্রদর্শনীর মাধ্যমে চাষিদের সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

 

 

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম