আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ঐক্যবন্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নগরীর পাঠানপাড়া সংলগ্ন মোড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। জনগণের অধিকার ফিরে পেতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখন হেঁটে বাথরুমে যেতে পারেন না। বসে খেতে পারেন না। ১৮ মাস ধরে তাকে টেলিভিশন দেখতে দেওয়া হয় না। দুটো মাত্র পত্রিকা দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। তার মুক্তি হবে না। আদায় করতে হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
বিএনপিকে স্বাধীনতার পক্ষের দল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের একটা রাজনৈতিক দল। এর প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক। আমরা দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। আমরা জনগণকে তার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই।’
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আপনারা যে চুরি করছেন, এই ক্যাসিনোর মাধ্যমে তা প্রকাশ হয়ে গেছে। ক্যাসিনো তো ক্যাসিনো, তার চেয়ে বড় কথা- এই সরকার গত কয়েক বছরে কতো হাজার কোটি পাচার করেছে?’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাইরের পুরস্কার নিয়ে লাভ হবে না। দেশের মানুষের ভালোবাসা নেন। কাজে দেবে। দেশের জনগণকে অধিকার ফিরিয়ে দেন। দেশকে ধ্বংস করে ফেলেছেন। যারা একসময় শেয়ারবাজার, ব্যাংক লুটপাট করেছে; তাদের আপনি মন্ত্রী তৈরি করেছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, কিন্তু বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও চালের দাম বাড়ে। অথচ কৃষকের ধানের দাম বাড়ে না। সব জায়গায় পারসেন্ট কমিশন পদ্ধতি তৈরি করেছেন। ভোট ডাকাতি করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। তাই তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘শুদ্ধি অভিযান করে সরকারের নিজের কাঁপুনি উঠে গেছে। তিন টোকাইয়ের কাছে যদি এতো টাকা পাওয়া যায়, তাহলে পতাকাওয়ালার কাছে কতো আছে, পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে কতো আছে? এই শুদ্ধি অভিযান বন্ধ হলো কেন? শেয়ার বাজার, রির্জাভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারির টাকা কোথায় গেল? রাতের আঁধারে পালানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই সরকারের কাছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে দেশপ্রেমে ভেদাভেদ নেই। জনগণকে ঐক্যবন্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করতে হবে।’
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ‘বিএনপির সমাবেশে রাজশাহীর বাইরে থেকে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দিতে রাস্তাঘাট বন্ধ করেছে সরকার। রাস্তা অবরোধ করে বিএনপির আন্দোলন রুখতে পারবে না।’
সমাবেশকে ঘিরে আড়াই হাজার নেতাকর্মীকে থানায় আটকানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার সামনেই নাটোরের কাউন্সিলর, মেয়রকে গ্রেফতার করেছে। গত তিন দিনে প্রায় শত শত নেতাকর্মীকে বিনা কারণে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, অ্যাডভোকেট কামরুল মনির প্রমুখ।








