বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য ইলিশের অধিক প্রচার-প্রসার, সংরক্ষণ ও সচেতনা সৃষ্টির জন্য বরগুনার সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইলিশ উৎসব ২০১৯। বুধবার (২ অক্টোবর) দিনব্যাপী ইলিশ উৎসবে থাকবে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ইলিশের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীসহ বঙ্গোপসাগরের তাজা ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা। এছাড়াও ইলিশের তৈরি বিভিন্ন রকম খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রথমবারের মতো উৎসবটি আয়োজন করছে জেলা প্রশাসন ও বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম। এই উৎসবের মাধ্যমে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর (২২ দিন) জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রচারণা চালানো হবে।
বরগুনা জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরগুনায় মোট ইলিশ আহরণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৯৩৮ মেট্রিক টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসেবে বরগুনা জেলায় নদী এবং সাগর থেকে আহরিত ইলিশের পরিমাণ ৮৯ হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন, যা দেশের ৬টি জেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জেলার বিষখালী, বুড়িশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদী থেকে আহরিত হয়েছে ৫ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন এবং সাগর হতে আহরিত ইলিশের পরিমাণ হচ্ছে ৮৪ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন। বরিশাল বিভাগে ভোলা জেলার অবস্থান রয়েছে প্রথমে। ইলিশের বাড়ি খ্যাত চাঁদপুরের অবস্থান রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বরগুনার দুটি নদী বিষখালী এবং পায়রা ইলিশের প্রজননের জন্য খুবই উপযোগী। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই নদীতে মা ইলিশ তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। ইলিশ উৎসবের মাধ্যমে জেলেদের প্রতি অনুরোধ থাকবে যাতে এসময় জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন।’
বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনের বড় একটি অংশ বরগুনায়। এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় ইলিশ রফতানি করা হয়। তাই বরগুনা জেলাকে ব্রান্ডিং ও ইলিশকে পরিচিত করার জন্যই উৎসবের আয়োজন।’
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝণ্টু বলেন, ‘দেশের নদ-নদীর পানি প্রবাহ হ্রাস, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং জলজ দূষণের কারণে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে ইলিশের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইলিশের এসব বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় মৎস্যজীবী, জেলে ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো উপকূলীয় জেলা বরগুনায় আয়োজন করা হয়েছে ইলিশ উৎসব। জাতীয় মাছ ইলিশকে আরও জনপ্রিয় এবং ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের মুখ্য উদ্দেশ্য।’
ইলিশ উৎসবের কর্মসূচি:
বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র্যালি, ১১টায় কুইজ প্রতিযোগিতা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইলিশ বিষয়ক নাটক, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্থানীয় দেশীয় ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা ও ইলিশের তৈরি বিভিন্ন খাবারের আয়োজন।








