আইন করে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘১৮ বছর বয়সে মানুষের কথা বলার অধিকার- এটা ফ্রিডম অব স্পিচ। একজন ছাত্র, সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে যদি স্বাধীনভাবে কোনও কথা বলে, সংবিধান লঙ্ঘন না করে যে কোনও বিষয়ে সে বলতেই পারে। আপনি তো আইন করে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে পারবেন না।’
শনিবার (১২ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই ছাত্র রাজনীতি রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিজেপি, কংগ্রেস তাদেরও ছাত্র সংগঠন রয়েছে। এমনকি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র রাজনীতি রয়েছে। সেখানেও স্টুডেন্টস ইউনিয়ন রয়েছে। সেখানেও দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও তাদের প্রার্থী দাঁড় করায়। ছাত্র রাজনীতি আগেও ছিল। আমরাও ছাত্র রাজনীতি করেছি। দেশ স্বাধীনের পর, ৭২ এর পর আমরা জাসদের কাছে ছাত্র রাজনীতির নির্বাচনে হেরেছি। তাই বলে কী ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হয়েছে?’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তবে ছাত্র রাজনীতি হতে হবে স্বচ্ছ, সুন্দর এবং নৈতিক। ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে আমরা না। এটা মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনার মধ্যে ছাত্র রাজনীতি করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে পেশি শক্তির ব্যবহার কোনও ক্রমেই করতে দেওয়া যাবে না।’
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। যে কোনোভাবেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। আবরার হত্যাকাণ্ড এটি একটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে পারে, একটা মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে, এটা আমরা চিন্তাও করতে পারি না। ভবিষ্যতে যেন এমন দ্বিতীয় কোনও ঘটনা ঘটতে না পারে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদারকি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’
এরপর মন্ত্রী বারি’র কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যেই এই মন্ত্রণালয়, বিভাগ এমনকি সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পোল্ট্রি এবং ফিশারিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। দানা জাতীয় শষ্য উৎপাদনেও আমরা অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তারপরও বছরে এখন ৭-৮ লাখ টন মশুর ডাল আমদানি হয়, যার বাজার মূল্য আড়াই হাজার কোটি টাকা। আমদানি কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। এবছর আট লাখ টন ডাল আমাদের দেশে উৎপন্ন হয়েছে। অর্থকরী এবং লাভজনক ফসলের দিকে কৃষি বিজ্ঞানীদের আরও দৃষ্টি দিতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এক্রিডেটেড গবেষণাগার (আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত গবেষণাগার) না থাকায় এবারও আমাদের লাখ লাখ টন আলু নষ্ট হবে। এক্রিডেটেড গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আমরা সনদসহ ইন্দোনেশিয়া এবং বহির্বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে আলু রফতানি করতে পারব।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, বারি’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা প্রমুখ।








