ইলিশ প্রজননের চলতি মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে জাল ফেলছে না সুন্দরবন উপকূলের এক লাখেরও বেশি জেলে পরিবার। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এই জেলেদের অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা খুবই কম। ‘জেলে কার্ড’ থাকলেও অনেকে ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন উপকূলের চিলা, জয়মনি, চরকানা ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকায় কথা হয় জেলে শংকর গাইন, আবু বকর, বিদ্যুৎ মণ্ডল, লিয়াকত আলী, ইসমাইল সরদারসহ একাধিক জেলের সঙ্গে। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা ও পশুর নদীতে ইলিশ মাছ ধরেন এই জেলেরা। তারা বলেন, ‘মোংলা উপজেলায় জেলে আছে প্রায় ১০ হাজার। এদের মধ্যে চলতি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মাত্র ৩৬২ জনকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। সামান্য এ চাল দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে ২২ দিন চলবে?’
উপজেলার চরকানার জেলে আবু বকর ও চিলা এলাকার শংকর গাইন বলেন, ‘আমাদের মতো কয়েক হাজার জেলের ‘জেলে কার্ড’ আছে, কিন্তু আমরা কোনও ত্রাণ সহায়তা পাইনি। ১২ মাস নদীতে মাছ ধরে খাই, এখন কীভাবে সংসার চালাবো। খুবই কষ্টে আছি। ’
জানতে চাইলে মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড এম তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘এই উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ছয় হাজার পাঁচশ’। এদের মধ্যে ৩৬২ জন জেলেকে ভিজিএফের আওতায় ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলেদের পর্যায়েক্রমে ভিজিএফের আওতায় এনে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাবর জানানো হয়েছে।’
এদিকে, জেলেদের ২২ দিনের জন্য ২০ কেজি চাল খুবই সামান্য স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জেলেদের জন্য আরও বেশি করে চাল বরাদ্দ এবং একাধিকার যেন এই চাল দেওয়া হয়, সরকারের কাছে সেই প্রস্তাবও করা হয়েছে।’
গত ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন বন্ধ আছে নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ ও বিক্রি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে।
জানা যায়, উপকূলীয় নদ-নদীতে এসে মা ইলিশ মূলত সারাবছরই কমবেশি ডিম ছাড়ে। আর তাই মা ইলিশ যেন নির্বিঘ্নে মিঠা পানিতে এসে ডিম ছাড়তে পারে, সেজন্য পূর্ণিমার আগের চার দিন ও পরের ১৮ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ কিংবা বিক্রিও সম্পূর্ণ বেআইনি বলেও মৎস্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে।
মোংলা উপজেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড তৌহিদুর রহমান আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার এ আদেশ অমান্য করলে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা, বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘নিষিদ্ধের এই সময় কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। ’








