কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়াকে পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করার দাবিতে আন্দোলন দানা বাঁধছে এখানকার লোকজনের মধ্যে। দাবি আদায়ের জন্য প্রতিদিন চলছে মিছিল, মিটিং ও আলোচনা সভা। সেইসঙ্গে দানা বাঁধছে অসন্তোষ।
সদ্যবিলুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে সুবিধা বঞ্চিত ছিলাম। এখন বাংলাদেশের অর্ন্তভুক্ত হয়েছি। আমরা দাসিয়ারছড়াকে পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদ করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের এ দাবি পূরণ না হলে আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবো।’
এ দাবিতে প্রথম পর্যায়ে শুক্রবার বাদ জুমা দাসিয়ারছড়ার প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে মোনাজাত, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। রবিবার ছিটের লোকজন দাসিয়ারছড়াকে ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানান সাবেক ছিটমহলের নেতারা।
শনিবার দাসিয়ারছড়ার ঘুরে দেখা গেছে, বিলুপ্ত ছিটের উন্নয়নে ভূমি জরিপ, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগের প্রসারসহ ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। কিন্তু ছিটবাসীর প্রাণের দাবি ‘আলাদা ইউনিয়ন’ ঘোষণা না আসায় লোকজনের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
দাসিয়ারছড়ার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত ১৫ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ছিটে এসে অনেক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনের সঙ্গে দাসিয়ারছড়া একটি ইউনিয়ন পরিষদের ঘোষণা দেবেন বলে তারা আশা করেছিলাম। কিন্তু সেটা না হওয়ায় তারা হতাশ।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দাসিয়ারছড়াবাসী প্রত্যাশা করেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫ অক্টোবর দাসিয়ারছড়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেবেন। সেটা বিলম্ব হওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। সে কারণে আমরা রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করব।’
দাসিয়ারছড়া একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন তিনি।
/আরএ/এসটি/








