কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর প্রায় চার লাখ মানুষের দুর্ভোগের নাম এখন মহেশখালী জেটি ঘাট। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌ যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে কক্সবাজার সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য দুর্ঘটনা ও যাত্রীদের নানা অভিযোগের পরও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
প্রতি বছর এ জেটি থেকে ৩০/৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও জেটি সম্প্রসারণে কর্তৃপক্ষের মাথাব্যাথা নেই বলে অভিযোগ করেন ব্যবহারকারীরা।
মহেশখালী জেটি ঘাটে নৌযান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত আবুল কালাম জানান, ভাটা শুরু হলেই নেমে আসে দুর্ভোগ। ভাটা শুরুর পর অল্প সময়ের জন্য ডিঙি নৌকা দিয়ে জেটিতে যাত্রী পারাপার করা যায়। ভাটা পূর্ণ জেটি থেকে অন্তত ২০০ গজ দূরে আটকে পড়ে সব ধরনের নৌযান। এসময় কোনও নৌযানই ঘাটে ভিড়তে পারে না। এমনকি বিকল্প বাহন ডিঙি নৌকাও চলাচল করতে পারছে না। প্রতিদিন প্রায় ৫ ঘণ্টা এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের মহেশখালী জেটি নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে জেটির পাশে আধা কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় সংকুচিত হয়ে যায় ঘাট সংলগ্ন নৌপথ। চলাচলে সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা।
ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০০০ সালে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে জেটিঘাটের ব্রিজটি ১০০ মিটার সম্প্রসারণ করা হয়।কিন্তু অব্যাহতভাবে নদী ভরাট হতে থাকায় কয়েক বছরের মধ্যে বর্ধিত জেটিও সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে ভাটার সময় কোনও নৌযান জেটিতে ভিড়তে পারছে না।
যাত্রীরা জানান, ভাটার সময় নিরুপায় হয়ে কোমর সমান কাদা আর হাঁটু সমান পানি ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পুরুষ যাত্রীরা কোনওভাবে চলাচল করতে পারলেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের চরম কষ্ট হচ্ছে। রোগীদের কষ্ট আরও বেশি।
কক্সবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা মোহিবুল্লাহ জানান, ‘ঘাটের কারণে এখন সময় মেপে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাটা হলেই আর রক্ষা নেই। গত পাঁচ বছর ধরে এই দুরাবস্থা চলে আসছে। এতে স্থানীয়দের পাশপাশি পর্যটকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জেটি ঘাটের সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটের নিয়মিত যাত্রী কলেজ প্রভাষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে মহেশখালী এখন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রায় সময় বিভিন্ন ভিআইপি মহেশখালীতে আসছেন। এতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে জেটি ঘাট। তাই মহেশখালী জেটির সম্প্রসারণ করা এখন সময়ের দাবি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কামাল বলেন,‘জেটি সম্প্রাসরণ করার কোনও প্রকল্প আপাতত হাতে নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন,‘মহেশখালী জেটি ঘাটের ভোগান্তি আমার জানা আছে। জেটিঘাট সম্প্রসারণ করে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথ নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা করব।’
/জেবি/এফএস/ এসএস/








