বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) ডিগ্রি পাস কোর্সের ১ম বর্ষ সমাপনী পরীক্ষায় লালমনিরহাটের ১৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারছেন না।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান,লালমনিরহাটের আদিতমারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আজিজার রহমান ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শামসুল ইসলাম সুরুজের ছেলে ফারুক ইমরুল কায়েসের দ্বন্দ্বের জেরে পরীক্ষায় বসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮-নভেম্বর) ওই ১৫ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র নিতে কলেজে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি বলে তারা প্রবেশপত্র পাননি।
জানা যায়, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি পাস কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নিতে আদিতমারী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৬২ জন পরীক্ষার্থী প্রায় চার মাস আগে ফরম পূরণ করেন। ফরম পূরণ করা হলেও তাদের কোনও রশিদ দেওয়া হয়নি।
আরও জানা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শামসুল ইসলাম সুরুজের ছেলে ফারুক ইমরুল কায়েসের কাছে যান। ইমরুল কায়েসের চাচা শওকত আলী সরকার কলেজের নির্বাহী পরিষদের সভাপতি। কায়েস প্রাতিষ্ঠানিক কোনও পদে না থাকলেও পারিবারিক কারণে কলেজের নির্বাহী কাজে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান কলেজ প্রশাসনের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, কায়েস কলেজের ৭০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের ব্যবস্থা করেন। তবে অধ্যক্ষ আজিজার রহমান বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় উভয়ের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বলি হন ১৫ শিক্ষার্থী। তাদের বিষয়ে অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনও প্রবেশপত্র আসেনি।
আদিতমারী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, ‘৭০ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার পরও কেন ১৫ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসলো না। বিষয়টি অধ্যক্ষই ভালো বলতে পারবে।’
প্রবেশ পত্র না পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন পল্লব কুমারসহ অন্যরা বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ১৫ পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর অকারণে হারিয়ে যেতে পারে না। এই দায়-দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।’
ডিগ্রি পাস কোর্স বিএসএস ১ম বর্ষের পরীক্ষার্থী লাইলী খাতুনের মা জেন্না খাতুন অভিযোগ করেন, ‘অনেক কষ্টে টাকা-পয়সা জোগাড় করে ফরম পূরণের টাকা দিয়েছি। কেন আমার মেয়ের প্রবেশপত্র আসেবে না?
আদিতমারী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আজিজার রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।








