বিমানের টিকিটসহ নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য আটক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৪৯আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৪

বিমানের টিকিটসহ নারী পাচারকারী চক্রের ৬ সদস্য আটক

নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিমানের ৫০টি টিকিটসহ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এসময় চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো- ময়মনসিংহের ধুপাউড়ার মো. অনিক হোসেন (৩১), নোয়াখালীর চাটখিলের মো মনির হোসেন ওরফে সোহাগ (৩০), নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মো. আক্তার হোসেন (৪০), চাঁদপুরের কচুয়ার মো. আফতাউল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৭), কুমিল্লার চান্দিনার আ. হান্নান (৫২) ও মাদারীপুরের সদর থানার মো. আকাশ (২৯)। এদের মধ্যে ৫ জনকে রূপগঞ্জ ও আকাশকে ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান থেকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (২৪ নভেম্বর) র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত সিও) স্কোয়াড্রন লিডার মো. রেজাউল হক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

জানানো হয়, আর্ন্তজাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যরা গত এক বছরের শুধু একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭২৯ জনকে পাচার করেছে। এদের মধ্যে ৭২১ জনই তরুণী। যাদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।

শনিবার দিবাগত রাতে রূপগঞ্জের তারাব মোড়ের শাহ চন্দপুরী রেস্টুরেন্ট ও ঢাকার খিলগাঁয়ের গোড়ান এলাকায় অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়ে ৭০টি পাসপোর্ট, দুইশ’ পাসপোর্টের ফটোকপি, ৫০টি বিমানের টিকেট, ৫০টি ভিসার ফটোকপি, নগদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর ও একটি মাইক্রোবাস।

র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রেজাউল হক জানান, গ্রেফাতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু তথ্য জানা গেছে। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ১৫ থেকে ২৫ বয়সী তরুণীদের উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে থাকে। এই পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক এজেন্ট, পাসপোর্ট দালাল, ড্যান্স বারের মালিক, ট্রাভেল এজেন্সি ও অসাধু ব্যক্তিরা যুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, টার্গেট করার পর প্রথমে তরুণীদের ছবি বিদেশে অবস্থিত ড্যান্স বারের মালিকদের পাঠানো হয়। ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ড্যান্স বারের মালিক অথবা তার প্রেরিত প্রতিনিধি সরাসরি উক্ত তরুণীদের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঢাকা অথবা আশেপাশের কোনও রেস্টুরেন্টে, হোটেল অথবা লং ড্রাইভের নামে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল মাইক্রোবাসে সাক্ষাৎ করে থাকে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণীদের পাসপোর্ট সিন্ডিকেট নিজস্ব দালালের মাধ্যমে প্রস্তুত করে থাকে। এরপর ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের মাধ্যমে নথিপত্র ম্যানেজ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই তরুণীকে মধ্যপাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।

এই তরুণীরা বিদেশে পা রাখার পরপরই বিমানবন্দর থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা রিসিভ করে হোটেলে নিয়ে গৃহবন্দি করে রাখে। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে তাদের হোটেল তথা ড্যান্স বারের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় তারা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে রাজি না হলে তাদের বাধ্য করা হয়। এভাবে দিনের পর পর তরুণীদের ওপর নির্যাতন চলতে থাকে।

 

/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম