সিলেট জেলার তিন পৌরসভায় চার বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে সিলেট আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে কেন্দ্র থেকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও তারা তা আমলে না নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত বিদ্রোহীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেট বিভাগের তিন পৌরসভার মধ্যে গোলাপগঞ্জে দুইজন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট পৌরসভায় একজন করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।
গোলাপঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন, বর্তমান পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। জকিগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক ফারুক আহমদ। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান। কানাইঘাটে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নিজাম উদ্দিন আল মিজান। এই পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান।
গোলাপগঞ্জে মেয়র প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন, ঠিক আছে। তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন না। এরকম করতে চাননি জানিয়ে বলেন, দলের তৃণমূল কর্মীদের চাহিদা ও মানুষের ভালোবাসায় তিনি প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন জানিয়ে বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের কোনও চিন্তা-ভাবনা তার নেই। সিরাজুল জব্বার গোলাপগঞ্জ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রশাসক ছিলেন। এছাড়াও পৌর নির্বাচনেও মেয়র পদে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি।
এই পৌরসভায় অপর বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেছেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার পক্ষে রয়েছেন। যুবলীগও তার পক্ষে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না জানিয়ে বলেন, তিনি যুক্তরাজ্য যুবলীগের সেক্রেটারি। তাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় এই দেশ থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এরপরও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তিনি নির্বাচনকেই অগ্রাধিকার দেবেন। দলের নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ বলেন, প্রথমে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ তার মনোনয়নপত্র অবৈধ করা হয়েছিল। আপিলে তা ফিরে পেয়েছেন। দলের মানুষ ও পৌরবাসী তাকে চান। তিরি আরও বলেন, জকিগঞ্জে দলীয় প্রার্থী যিনি হয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’। দলে তার কোনও পদ-পদবী নেই। তিনি (দল মনোনীত প্রার্থী) জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে সংবর্ধনা দিয়েছেন।
কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন মিজানের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে একজন জানান, নির্বাচনি প্রচারণার কারণে তিনি ফোন ব্যবহার করছেন না।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তারা বিদ্রোহীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। এই সময়ে বিদ্রোহীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। এটা না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের দলীয় একটি সূত্র জানায়, সিলেটে এই চারজনসহ সারাদেশের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। মনোনয়ন প্রত্যাহার বুধবার থেকে তাদের নামে চিঠিও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুক্রবার রাতে সিলেটের চার বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এ রকম কোনও চিঠি কেন্দ্র থেকে তারা পাননি।
/এফএস/








