নরসিংদীর মনোহরদীতে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম (৭৫)-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। বিজয়ের মাসে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মধ্য চরমান্দালিয়া গ্রামে।
চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ মিয়া ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম মারা যান। মারা যাওয়ার পর চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ বিষয়টি মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারাকে অবহিত করেন। পরে মতিউর রহমান তারা বিষয়টি মনোহরদী থানাকে জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মরহুমের জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। এই বিষয়টিও মনোহরদী থানাকে জানানো হয়। পুলিশের পরামর্শে জানাজার সময় একঘণ্টা পিছিয়ে বেলা ১১টায় নির্ধারণ করা হয়। মাইকিং করে এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হয়।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি জানাজায় উপস্থিত হন। এ সময় নিয়ম অনুসারে মরহুমের লাশ জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। জানাজার আগেই বিউগল বাজানো, রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করার কথা। কিন্তু জানাজার সময় হয়ে গেলেও বিউগল ছাড়াই দুইজন পুলিশ সদস্য জানাজাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় থানায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, আরও পুলিশ আসছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা পরও থানা থেকে অন্য কেউ জানাজায় উপস্থিত হননি। পরে সাড়ে ১১টায় জানাজা পড়ানো হয়। প্রায় দুপুর ১২টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, ‘বারবার অবহিত করার পরও থানার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার শামিল।’
এ বিষয়ে জানতে মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়াকে ফোন করলে তিনি ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত’ বলে লাইন কেটে দেন।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হাসান বলেন, 'এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও দেশবাসীর কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। বিউগলে ত্রুটি ও গাড়ি নষ্ট থাকায় সেখানে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। জানাজার পরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।'
মনোহরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিয়া আক্তার শিমুর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধি যথাসময়েই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ আসতে দেরি করেছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।’








