রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের নাম আসায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী মহানগর ইউনিট কমান্ড ও সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ’৭১-এর রাজশাহী জেলা শাখার নেতারা।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী মহানগর ইউনিট কমান্ডের লিখিত প্রতিবাদে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট বন্ধু অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু এবং আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মহসিনের নাম আসায় আমরা রাজশাহীর মুক্তিযোদ্ধারা বিস্মিত। আমরা এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছর পর সরকার রাজাকারের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃতির চোরাগলিতে ঠেলে দিতে প্রশাসনে ও রাজনীতিতে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও গোষ্ঠি কারসাজি করছে। এ কারণে তালিকাকে বিতর্কিত করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।
এদিকে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ’৭১-এর রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আবুল হাসান খন্দকার, সহসভাপতি আলী আসলান অপু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার জানান, রাজশাহীতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও মহসিনের নাম রাজাকারের তালিকায় কীভাবে আসলো-তা সরকারের কাছে আমরা জানতে চাই। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাই।
রাজশাহীর বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা এন্তাজুল হক বাবু বলেন, রাজশাহীতে মাসুম আহমেদ টিপু নামের একজন অ্যাডভোকেট আছেন। যার বাড়ি নগরীর আম বাগানে। কিন্তু অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু একজনই। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাবব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর, ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আর আব্দুস সালাম ইনকাম ট্যাক্সের আইনজীবী। তার বাড়িতে বঙ্গবন্ধু আসতেন ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতমও সংগঠক। তালিকাকে বিতর্কিত করা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও পদাধিকার বলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড প্রধান হামিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা অফিসিয়ালি তালিকা এখনও পাইনি। তবে কীভাবে তালিকায় ভুল নাম গেল, তা জানার চেষ্টা চলছে। আনঅফিসিয়ালি জেনেছি-এই তালিকাটা আমাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের কাছ থেকেও এ ধরনের কোনও তালিকা পাঠানোর তথ্য পাইনি। কোন এজেন্সি থেকে তালিকা পাঠানো হয়েছে, তার খোঁজ চলছে। তালিকা এলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আলাপ করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।








