সুনামগঞ্জের ছাতকে দশ বছর বয়সী শ্যালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রবাসী স্ত্রী টাকা না দেওয়ায় শ্যালকের ওপর শিপন এ নির্যাতন চালায় বলে জানা গেছে। ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজুর মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত শিপন ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা গ্রামের খালিক উদ্দিনের ছেলে।
ইউপি সদস্য সাজুর মিয়া বলেন, ‘শিপনের সঙ্গে দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদপুর গ্রামের দিনমজুর সমুজ আলীর মেয়ে হালিমা বেগমের (২৩) তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে হালিমা প্রায় এক বছর আগে স্বামী ও স্বজনদের মতামত নিয়ে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যান। যাওয়ার কিছুদিন পরে শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি ও টাকা দেননি। এ কারণে শিপন জাহিদপুর পুরান বাজারে চায়ের দোকানে কাজ করা শ্যালক বোরহানকে গত ১৮ ডিসেম্বর বুধবার রাতে বরটুকায় নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে পার্শ্ববর্তী এক প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে রাখে। পরদিন সকালে আহত বোরহানের কান্নার আওয়াজ পেয়ে বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে রশি ফেলে তাকে উদ্ধার করে। বোরহানের গলায় ও গালে ধারালো অস্ত্রের ক্ষত দেখা গেছে। পরে শিপনের মা ও ভাইদের সহযোগিতায় শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।’
দোলারবাজার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল খয়ের বলেন, ‘শিপন ও তার শ্বশুর দুজনই দিনমজুরি করে সংসার চালায়। স্ত্রী সৌদি আরবে যাওয়া পরে শিপনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি। এ ক্ষোভ থেকে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
এলাকাবাসী মো. সায়েস্তা মিয়া বলেন, ‘সমুজ আলীর পরিবার খুব গরিব। চিকিৎসা বা মামলা করার সামর্থ্য তাদের নেই। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।’
জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সুবীর জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।








