বগুড়ার সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হেদাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুদামের তালা ভেঙে ভিজিডির ৫০ বস্তা চাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে ওই ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে এলাকায় নেই চেয়ারম্যান।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে পরিষদের সচিব ও গুদামের পাহারায় নিয়োজিত দুই গ্রাম পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই অভিযোগ করেন। এরপর হাওড়াখালি গ্রামের ওই গুদামে চাল কম পান ইউএনও। তিনি অবশিষ্ট ৪৬ বস্তা চালসহ গুদাম সিলগালা করেন।
এই ঘটনায় সম্পৃক্ত ভ্যান চালককে না পেয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কামালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) আমজাদ হোসেন ও এলাকাবাসীরা জানান, চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। দড়িপাড়া গ্রামে পরিষদ হলেও তিনি ব্যক্তিস্বার্থে তার বাড়ি হাওড়াখালি গ্রামে গুদাম করেন। সেখান থেকে ১৮ ডিসেম্বর বুধবার ২১৭ জন ভিজিডি কার্ডধারীর মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের দুই বস্তা করে ৪৩৪ বস্তা চাল বিতরণ করেন। গুদামে ৯৬ বস্তা চাল ছিল। ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে চেয়ারম্যান হেদাইদুল ইসলাম ও তার লোকজন সেখানে আসেন। প্রহরার থাকা গ্রাম পুলিশ রাখাল চন্দ্র ও মণ্টু মিয়াকে ভয় দেখিয়ে গুদামের তালা ভেঙে ফেলেন। এরপর ভ্যানে ৫০ বস্তা চাল নিয়ে যান।
তারা আরও জানান, গুদামের তালা ভেঙে ৫০ বস্তা চাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি রবিবার বিকালে জানাজানি হলে পরিষদের সচিব মোজাহেদুল ইসলাম গ্রাম পুলিশ রাখাল চন্দ্র ও মণ্টু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়াকে অভিযোগ করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কাবিল উদ্দিন, খাদ্য কর্মকর্তা শাহান শাহকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়াখালি গ্রামের গুদামে গিয়ে ৯৬ বস্তার মধ্যে মাত্র ৪৬ পান চাল পান। গুদাম সিলগালার পর তারা চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।
চেয়ারম্যানের বাবা-মা জানান, ছেলের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। এরপর চাল চুরির সঙ্গে জড়িত অটোভ্যান চালক মিলন মণ্ডলকেও পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান জানার জন্য স্ত্রীকে আটক করা হয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিয়ার রহমান জানান, কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, যুবলীগ সভাপতি হেদাইদুল ইসলাম বিপথগামী হয়েছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছিল।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, ‘সবার অভিযোগ- তালা ভেঙে চাল চুরির সঙ্গে চেয়ারম্যান জড়িত। ফোন বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত ও অভিযান চলছে। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








