পৌষের শুরুতেই দিনাজপুরের হিলিতে পুরোদমে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র শীতের কারণে কাজ না থাকায় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা।
গত ৫/৬ দিন ধরেই হিলিতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় আকাশ মেঘলা থাকায় গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। শীত জেঁকে বসায় লোকজন ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। হাঁটবাজারে মানুষের আনাগোনাও কম। দরকার না হলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। জীবিকার তাগিদে হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে তাদের কাজের সন্ধানে বের হতে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাজের সন্ধানে এসে দিন মজুররা বেকার বসে আছেন। কাজ না পেয়ে কর্মহীন থাকতে হচ্ছে তাদের।
দিনমজুর সিদ্দিক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৫/৬দিন ধরে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। এর আগে এমন শীত দেখা যায়নি। শীতের কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক মানুষ কাজ না করলে খাবো কীভাবে। তাই তীব্র শীতের মধ্যেও আমাদের কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হচ্ছে। কিন্তু ঠান্ডার কারণে কাজও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যে কাজ পাচ্ছি, ঠান্ডার কারণে সেই কাজও ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। শীতে আমাদের মতো দিন মজুরদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
সিএনজিচালক ইসরাইল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঠান্ডার কারণে হাত-পা ঠিকমতো গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে আমাদের ইনকাম কমে গেছে। এর ওপরে কুয়াশার কারণে আরও বিপদ বেশি হয়ে পড়েছে। কুয়াশায় পাঁচ হাত দূরে কী আছে, দেখা যাচ্ছে না।গাড়ি চালাতে খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’
রিকশাচালক রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার প্রচুর ঠান্ডা পড়েছে। ঠান্ডার কারণে হাত-পা বেড় করা যাচ্ছে না। কাপড়চোপড় বেশি পড়তে হচ্ছে। তারপরেও ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। রিকশা চালাতে হাত পা কাঁপে। এছাড়া, শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এ কারণে যাত্রীও অনেক কম। ফলে আমাদের আয় কমে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘শীতের কারণে আমাদের মতো শ্রমিকদের খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ’
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে হিলিতে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ খুব কষ্ট পাচ্ছে। এই শীতকে মোকাবিলা করার জন্য ও শীতার্ত মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমে গরিব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, আমি নিজে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে নিজ হাতে ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি।’








