বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনা আর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হলো বড়দিন। দিনটি ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলার গির্জাগুলো সাজে উৎসবের আমেজে। বাংলা ট্রিবিউন জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
মৌলভীবাজার জেলায় খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে রঙের অভাব ছিল না শ্রীমঙ্গলের ক্যাথলিক চার্চ (শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী) প্রাঙ্গণে। আশপাশে জ্বালানো হয় রঙিন বাতি। বিশেষ প্রার্থনায় যোগ দিতে শহর ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসে মানুষরা। দিনব্যাপী আনন্দ উৎসব আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আনুষ্ঠানিকতা। বড়দিনের অনুষ্ঠানে ধর্মপল্লির আওতায় ৭৬টি গ্রাম, চা বাগান ও খাসিয়া পুঞ্জির প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী অংশ নেয়।
মোংলায় মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শেহলাবুনিয়া ক্যাথলিক গির্জাসহ উপজেলার প্রায় ৪১টি গির্জায় একসঙ্গে প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া শেহলাবুনিয়া, মাছমারা, মালগাজী, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গাসহ বিভিন্ন খ্রিষ্টান পাড়াগুলোতে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে বড় দিন পালিত হয়। এছাড়া বিভিন্নস্থানে বসে মেলা।
পাবনা জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বড়দিন। সকাল দশটায় পাবনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চে অনুষ্ঠিত হয় বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা। এই প্রার্থনা পরিচালনা করেন চার্চের পালক ইসাহাক সরকার। পরে কুশল বিনিময় ও বড়দিনের কেক কাটা হয়। আয়োজন করা হয় পিঠা পর্ব। সন্ধ্যায় হয় কীর্তন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও জেলার ২১টি গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
শেরপুর জেলার বিভিন্ন খ্রিষ্টান মিশন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছিল দিনভর উৎসবের আমেজ। জেলা সদরের চর শ্রীপুর, পৌর এলাকার কসবা গরো পল্লি, সীমান্তের ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়ম নগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লি, নালিতাবাড়ি উপজেলার বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লি ও শ্রীবরদী উপজেলার বাবলাকোনা উপজাতি খ্রিষ্টান ধর্মপল্লিসহ বিভিন্ন এলাকার ২৯টি গির্জায় ছিল নানা আয়োজন। এসব গির্জার আয়োজনের মধ্যে ছিল কেক কাটা, প্রতীকি যিশুর জন্মস্থান গোয়াল ঘর তৈরি করে আরাধনা, ক্রিসমাস গাছ সাজানো। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দিনব্যাপী বিভিন্ন গির্জার পাশে চলে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠিদের পণ্যের মেলাও।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজলোর বনপাড়া, জোনাইল, রাজাপুর ও ভবানীপুর ধর্মপল্লির প্রায় ১৬ হাজার খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন পালন করে। দিনটি উপলক্ষে বুধবার সকালে বনপাড়া ধর্মপল্লির ক্যাথলকি চার্চে অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান পরচিালনা করনে প্রধান পাল-পুরোহতি ফাদার বিকাশ হিউবার্ট রিবেরু। প্রার্থনা শেষে গির্জা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় কীর্তন প্রতিযোগিতা।
দিনাজপুরের হিলির ছাতনি চারমাথা মোড়ের প্রেরিত শিষ্য সাধু যোহনের জামতুলী গির্জায় সকালে বিশেষ প্রার্থনা হয়। প্রার্থনা পরিচালনা করেন পাঁচবিবির পাথরঘাটা ক্যাথলিক মিশনের ফাদার জাকারিয়াস মার্ডী। বড়দিনের জন্য রঙ্গিন কাগজ ও ফুল দিয়ে সাজানো হয় গির্জা। এছাড়াও কেককাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়।








