মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে অন্য এলাকার মতো রাজশাহী পাটকলের শ্রমিকরাও অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। থেমে থেমে চলা এ আন্দোলনে দাবি পূরণের আশ্বাস এখনও মেলেনি। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা নগরীর কাটাখালি এলাকায় পাটকলে গিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
আমরণ অনশনে থাকা পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসিতে (বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন) শ্রমিকবিরোধী কিছু লোক আছে যারা শ্রমিকদের স্বার্থের কথা ভাবেন না। নিজেদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে তারা শ্রমিকদের যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নিচ্ছেন না। অথচ এই শ্রমিকরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই যে সকল কর্মকর্তা এই দাবিকে সমর্থন করছেন না বা পাশে থাকছেন না তাদের উচিত এখন শ্রমিকদের পাশে থাকা।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত দ্রব্যের যে দাম সেই দামের সঙ্গে মিল রেখে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানার উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি করলে শ্রমিকরা ন্যায্য বেতন-ভাতা পাবেন। তাহলে তাদের এই শীতের মধ্য আন্দোলন করতে হতো না। কিন্তু কিছু আমলা নিজেদের স্বার্থের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। এর ফল ভোগ করছেন সাধারণ শ্রমিকরা যারা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ফেরদৌস জামিল টুটুল, সাধারণ সম্পাদক অসিত পাল, সহ-সভাপতি সিরাজুর রহমান খান, কাটাখালি পৌর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলাল মোল্লা প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) সিদ্ধান্ত বাতিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবিতে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন রাজশাহী, খুলনাসহ সরকারি অন্যান্য পাটকল শ্রমিকরা। পরে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে গত ১৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে তারা আবার আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। রাতে তীব্র শীতের মধ্যেও রাজশাহীর পাটকল শ্রমিকরা প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছেন। সকাল থেকে শুরু হয় সমাবেশ।








