দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৭৬৫ শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এবার এই বোর্ড থেকে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৮১৫ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৮৫ দশমিক ০১ শতাংশ আর ছাত্রদের ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী তিন হাজার ৪৮৮ জন এবং ছাত্র তিন হাজার ২৭৭ জন।
ফলাফলের দিক দিয়ে এই বোর্ডের আটটি জেলার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে গাইবান্ধা। এই জেলায় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ১২ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রংপুরের জেলার পাসের হার ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৬৯৭ জন। ৮৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৬ জন। চতুর্থ অবস্থানে থাকা নীলফামারীর পাসের হার ৮৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭১ জন। ৮৩ দশমিক ০৭ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে দিনাজপুর। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৪৮৪ জন। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। এই জেলার পাসের হার ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬২ জন। ৭৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ নিয়ে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড়। এই জেলায় ২৮৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৭৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে লালমনিরহাট। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন।
এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৩০৩ জন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমান জানান, এবার এই বোর্ডে গণিত ও ইংরেজিতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। শতভাগ পাস করেছে ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানের এবং একজনও পাস করতে পারেনি নয়টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এবার এই বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ২৬৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৮৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এই বোর্ডে একজনও পাস না করা ৯টি প্রতিষ্ঠান হলো– নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ জুনিয়র গার্লস স্কুল, কুড়িগ্রামের সদরের মেহেরুন্নেছা জুনিয়র গার্লস হাই স্কুল, লালমনিরহাটের আদিতমারীর গবধা জুনিয়র হাই স্কুল, দিনাজপুরের বীরগঞ্জের আত্রাই জুনিয়র স্কুল, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর বেউরঝাড়ী জুনিয়র স্কুল, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের টেপরীগঞ্জ জুনিয়র গার্লস স্কুল, বোদা উপজেলার বোদা পওরা আদর্শ জুনিয়র স্কুল, আটোয়ারী উপজেলার জসিমুন নেছা জুনিয়র গার্লস স্কুল এবং একই উপজেলার চাপড়াঝাড় আদর্শ জুনিয়র স্কুল। এসব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দুই থেকে ১১ জনের মধ্যে।
এসব প্রতিষ্ঠার থাকার প্রয়োজন নেই বলে জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।








