দিনাজপুরের হিলিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের ড্রিলিং কার্যক্রমে সন্ধান পাওয়া লোহার খনির সম্ভাব্যতা নিশ্চিত, মজুত ও পরিধি যাচাইয়ে জন্য তৃতীয় পর্যায়ের ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)। বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় হিলির আলিহাট ইউনিয়নের ভাটারা এলাকায় দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের একটি দল এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উদ্বোধন শেষে শিবলী সাদিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের অনুসন্ধানে এই অঞ্চলে এর আগেও দিঘিপাড়াতে আমরা কয়লার খনি পেয়েছি। পরে লোহার খনির জন্য তারা হিলির মনসাপুর ও ইসবপুরে ড্রিলিং কার্যক্রম চালান। এখন তৃতীয় পর্যায়ের প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ড্রিলিং কার্যক্রম করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পত্র পত্রিকায় এসেছে আমরা এখানে লোহার খনির সন্ধান পেয়েছি। সেটিকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এই জরিপের কাজ উদ্বোধন করা হলো। এটার ফাইনাল রিপোর্ট জমা হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে ব্রিফিং দেবেন। কী কী সম্পদ রয়েছে তখন বিস্তারিত জানতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ শুধু এতটুকু বলতে চাই, ইতোমধ্যে এখান থেকে যতটুকু লোহার আকরিক বা অন্য পদার্থগুলো পেয়েছি তাতে আমরা আশাবাদী, এখানে অবশ্যই লোহার খনি বাস্তবায়ন হবে। লোহার খনির সঙ্গে আরও মূল্যবান এখানে অনেক ধরনের পদার্থ রয়েছে; যেগুলোতে এই অঞ্চল তথা বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যে সম্পদ মাটির নিচে লুকিয়ে আছে সেটিকে ব্যবহার করে আমাদের দেশ অনেক দূরে এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে হিলির মুর্শিদপুর এলাকায় প্রথম কূপ খনন করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। সে সময় খনির সন্ধান পাওয়ায় সেই তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল হিলির ইসবপুর গ্রামে দ্বিতীয় পর্যায়ের কূপ খনন করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তখন সবচেয়ে কম গভীরতায় দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান পাওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলার ভাটারা গ্রামে তৃতীয় পর্যায়ের ড্রিলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো।








