ভালোবাসার জন্য কতজনই তো কত কিছু করেন। যেমন মুঘল সম্রাট শাহজাহান ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ তার প্রিয়তমা মমতাজের জন্য তাজমহল তৈরি করেছিলেন। দরিদ্র কৃষক কাদিরের তো তেমন সামর্থ্য নেই কিন্তু তাতে কি! স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সরিষা ক্ষেতেই গড়ে তুলেছেন ‘নকশিকাঁথার মাঠ’।
‘আমি কৃষকের ছেলে,একমাত্র কৃষি কাজই জানি,তাই সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে কারুকার্যটা তুলে ধরেছি’— বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়াখালবলা গ্রামের হাজী তারা মিয়ার পুত্র আব্দুল কাদির (৪০)। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ বিঘা (৩৫ শতক) জমিতে সরিষা চাষ করে তাতে শৈল্পিক বুননের মাধ্যমে করে তুলেছেন অপরূপ দৃষ্টিনন্দন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সরিষা ক্ষেতের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন শতশত মানুষ ভিড় করছেন কাদিরের বারি-১৫ সরিষা ক্ষেত দেখতে।
আলাপচারিতায় কৃষক আব্দুল কাদির বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাড়াখালবলা গ্রামের ৩৫ জন যুবককে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বন্ধুমহল ডিজিটাল ক্লাব। ওই ক্লাবের সদস্যদের সহায়তায় কৃষি ক্ষেত্রে ডিজিটাল আইডিয়াকে কাজে লাগানোর জন্যই নিজের জমিতে বারি-১৫ জাতের সরিষা চাষ করেন। পরে চার দিকে চারটি ও মাঝখানে একটি লাভ আকৃতি, ক্ষেতের মাঝখানে একটি জাতীয় ফুল শাপলা ও আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা আঁকেন। জমিতে বীজ থেকে চারা গজানোর পরই তা যেন হয়ে উঠেছে একটি জীবন্ত ছবি। দৃষ্টিনন্দন এই কাজে তাকে সার্বিক সহায়তা করেছে বন্ধুমহল ডিজিটাল ক্লাবের সদস্যরা। পরামর্শ ও সার দিয়ে সহায়তা করে কৃষি বিভাগ। কাদিরের সরিষা ক্ষেতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন দেখতে।
আব্দুল কাদির আরও জানান, সংসারের হাল ধরতে পঞ্চম শ্রেণির বেশি পড়ার সুযোগ হয়নি তার। কিশোর বয়সেই (১৯৯৫ সালে) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে পাশের সোহাগী গ্রামের আহম্মদ আলীর কন্যা মাকসুদা বেগমের সঙ্গে। ২০০০ সালে মাকসুদার সাথে ঘর বাঁধেন তিনি। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই আছে দাবি করে কাদির জানান, সুযোগ পেয়ে কৃষি কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সরিষা ক্ষেতে এই কারুকার্য করেছেন তিনি। কাদিরের দাবি, এ কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসব তা কখনও ভাবেননি তিনি। সরকারের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে সূর্য্যমুখী ফুল নিয়ে বড় আকারের বাগান করার পরিকল্পনা আছে তার।
বন্ধুমহল ডিজিটাল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাইম ইসলাম সোহেল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন কাদিরের সরিষা ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন। আব্দুল কাদিরের এই সফলতায় যুব সমাজ কৃষি কাজে উদ্যোগী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিশোরগঞ্জ থেকে আব্দুল কাদিরের সরিষা ক্ষেত দেখতে আসা কুতুব উদ্দিন জানান, দেশ ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার টান যে কৃষি কাজের মাধ্যমেও ফুটিয়ে তোলা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছেন আব্দুল কাদির।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মাজেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন সরিষা ক্ষেতে ফুটিয়ে তুলেছেন কাদির। তার এই উদ্যোগ যুব সমাজকে কৃষি কাজে আগ্রহী করে তুলবে।







