নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফুফাতো ভাই ও এক মাদক ব্যবসায়ীর প্রতারণার ঘটনায় ভোলাব পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে এক দম্পতিকে ধরে নিয়ে কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের অফিস কক্ষে আটকে রেখে ওই দুজন প্রতারণা করে ৩৫ হাজার টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুল হাসান।
পুলিশ ও মামলার বাদী আজিজুল ইসলাম সুজন জানান, ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রোজিনা বেগমকে কাঞ্চন বাজারের নুপুর ফার্মেসিতে ডাক্তার দেখিয়ে রিকশাযোগে ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। কালাদী স্ট্যান্ডে ওই দম্পতিকে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের ফুফাতো ভাই হুমায়ূন হোসেন ও তার সহযোগী কালাদী এলাকার কাজিমুদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আলামিন পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক কাঞ্চন স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কক্ষে আটকে রাখে। পরে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যথায় তাদের ১০০ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে। রাতে আজিজুল ইসলাম সুজন তার মা হাসনেয়ারা বেগমকে খবর দিলে তিনি ফাঁড়িতে আসেন। তখন হুমায়ূন ও আলামিন হাসনেয়ারার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকার নিয়ে সুজন ও তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় বুধবার বিকালে সুজন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই ভোলাব ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিকুল ইসলামকে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত হুমায়ুন ও আলামিনকে গ্রেফতার করেছে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি বলেন, অন্যায়কারী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি খুবই ন্যক্কারজনক। ভোলাব ফাঁড়ি ইনচার্জকে প্রশাসনিক কারণে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।








