রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, এখানে অনেক ধরনের রোগী থাকে। এর মধ্যে মুমূর্ষু রোগীও থাকে। তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সংক্রমণের বিষয়টি আমাদের আগে ভাবতে হয়। তাই সবাইকে সব জায়গায় ঢুকতে দেওয়া সম্ভব হয় না। অনুমতি ছাড়া রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকরা ঢুকতে পারবেন না।’
শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রামেক মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ কথা বলেন।
সাংবাদিক প্রবেশে রোগীদের অসুবিধা হতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে ঢুকতে হলে সাংবাদিকরা পরিচালকের কাছে অনুমতি নেবেন, তারপরে ঢুকবেন। হাসপাতালে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ থাকে। তাই বেশি দর্শনার্থী থাকার কারণে রোগীদের নানারকম জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টি আমরা যেমন দেখব, তেমনি আপনারাও দেখবেন। এটি সবার দায়িত্ব।’
দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে সাংবাদিকদের প্রবেশের দাবিতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল এই হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলা চালান। হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়কে মারপিটের ঘটনার ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পেটান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে কমপক্ষে ১০ সাংবাদিক আহত হন। গুরুতর আহত যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসন রাসেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর থেকে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে খুবই আন্তরিক। যখনই কোনও বিষয় অনুমোদনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তিনি অনুমোদন দেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে অর্জিত সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।’
এ সময় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। কারণ মন্ত্রণালয় যেসব প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে তার ভাগিদার রাজশাহীও।’ মন্ত্রী এখানকার স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধানের আশ্বাস দেন।
রামেকের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. নওশাদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক গোপেন্দ্রনাথ আচার্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।








