আজ ঝিনাইদহ মুক্ত দিবস

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৩:৪০আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৬:১৫
image

jhenaidah-tour-online-dhaka-guide আজ ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক ঝিনাইদহ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের সঙ্গে একইদিন পাকহানাদার মুক্ত হয়েছিল ঝিনাইদহ জেলা। উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। অসহযোগ প্রস্তুতিপর্ব,প্রতিরোধ,গেরিলা আক্রমণ ও শেষে সম্মুখ সমরে বিজয় অর্জন-১৯৭১ সালের এই চারটি পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝিনাইদহের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে সম্মুখ যুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি গেরিলা যুদ্ধ ও অভিযান চালানো হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে ঝিনাইদহ পাকহানাদারদের দখলে যায়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও বহু মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৬ ডিসেম্বর ঝিনাইদহের মাটি থেকে পাকহানাদার বাহিনী বিতাড়িত হয়। যশোর ক্যান্টনমেন্টে জিওসি সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালিয়েছিল ঝিনাইদহে। শহরের দোকানপাট ভস্মীভূত হয়েছিল, ধুলিসাৎ হয়েছিল বাড়িঘর। সংঘঠিত হয়েছিল একাধিক যুদ্ধ।

 

যুদ্ধকালীন সময় ২৮ মার্চ বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ও ব্যারিস্টার আহমেদুল ইসলাম ছদ্মবেশে ঝিনাইদহে রাত্রী যাপন করেন। ১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভারী কামান ও মেশিনগানে সজ্জিত হয়ে একটি সশস্ত্র সেনাবহর বিষয়খালীর কাছে বেগবতী নদীর তীরে পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ১৬ এপ্রিল হানাদার বাহিনী আবারও বিষয়খালী বেগবতী নদীর তীরে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়। এখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ৩৫ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ব্রিজের পাশেই তাদের গণকবর দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মূলত জেলায় ছড়িয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ।

 

এরপর ৪ আগস্ট আলফাপুরের যুদ্ধ ১৪ অক্টোবর আবাইপুর যুদ্ধ,২৭ নভেম্বর কামান্নার ট্রাজেডিসহ বেশ কয়েকটি গেরিলা যুদ্ধ হয়। কামান্নায় ২৭ নভেম্বর পাকহানাদাররা ২৭ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে। ১৪ অক্টোবর আবাইপুরের যুদ্ধে ৪১ মুক্তিযোদ্ধা,আলফাপুরের  যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর দুই ক্যাপ্টেন,তিন সিপাহিসহ চার রাজাকার নিহত হয়। ঝিনাইদহ জেলায় ২৭৬ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে এই জেলায় মাত্র দুজন। তারা হলেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও বীর প্রতীক সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া ঝিনাইদহের অন্যতম আবাইপুর যুদ্ধের একাধিক গণকবর আজও অরক্ষিত।

 

দিবসটি উপলক্ষে জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্বজনরা বলছেন, বিজয় শুধু আনন্দ নিয়েই আসে না। আনেকে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার দাবি তাদের।

 

/জেবি/এসএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম