ময়মনসিংহ মেডিক্যালে শীতজনিত রোগে এক সপ্তাহে ১৩ শিশুর মৃত্যু

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
১৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৩আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৫

মৃত শিশুকে নিয়ে স্বজনদের আহাজারি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে মারা গেছে ১৩ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে নবজাতকসহ ভর্তি হয়েছে দুই শতাধিক শিশু। বর্তমানে নবজাতকসহ ৫০৩ জন শিশু এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে। রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সহকারী অধ্যাপক ডা. বিশ্বজিৎ চৌধুরী।

বিশ্বজিৎ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে নবজাতকসহ শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তীব্র শীতে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া দেখা দেওয়ায় প্রতিদিনই শিশু মারা যাচ্ছে। ঠান্ডায় বেশি অসুস্থ হওয়ার পর অভিভাবকরা সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। সে কারণে চেষ্টা করেও তাদের বাঁচানো যাচ্ছে না। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে গরম কাপড় শরীরে জড়িয়ে রাখতে হবে এবং অসুস্থ হলে দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডায় শ্বাসকষ্টে মারা গেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পারনগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টসকর্মী শহিদুল ইসলামের ৭ মাসের শিশুপুত্র রাইয়ান। শিশুটির গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। স্থানীয় পল্লী চিৎিসকদের পরামর্শসহ ওষুধ খাইয়েছেন অভিভাবকরা। কিন্তু সুস্থ না হয়ে রাইয়ানের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। পরে রবিবার সকালে রাইয়ানকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে সে মারা যায়। রাইয়ানের মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। রাইয়ানের বাবা শহিদুল বলেন, ‘গ্রামে চিকিৎসা না করিয়ে আরও আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হয়তো ছেলে এভাবে মারা যেত না।’

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটে চিকিৎসাধীন শিশু সুমনের মা রমিজা বেগম জানান, শীতের কারণে গত দুই দিন যাবৎ সুমন পাতলা পায়খানা করছে। হাসপাতাল থেকে স্যালাইনসহ ওষুধ বিনামূল্যে পেয়েছেন।

হাসপাতালের  উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছরই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম