বেনাপোল বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ মালামাল। গত ৩১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন মালামাল বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, আমদানি করা কোনও পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে খালাস করা না হলে ওইসব পণ্য নিলামে বিক্রির এখতিয়ার কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আছে। অথচ অনেক মালামাল বছরের পর বছর বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার কারণে এর গুণগত মান নষ্ট গেছে। এছাড়াও আমদানিকারকরা এসব মালামাল খালাস করে না। বন্দরের মাশুল অনেক কম হওয়ার কারণে অনেক আমদানিকারক বন্দরের শেডকে নিরাপদ গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করে। এসব কারণেও বন্দরে পণ্যজট বেড়ে যাচ্ছে।
আমদানিকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলামে উঠানোর ব্যাপারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আলসেমি ও ব্যবসায়ীদের পণ্য ফেলে রাখার বিষয়টি মানতে নারাজ বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যথাযথ আইন মেনেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিলাম করে থাকি। ক্রেতা ও যথাযথ নিলাম মূল্য না পাওয়ায় এবং আইনগত কিছু জটিলতার কারণে আমদানিকৃত মালামালের অনেকটাই নিলামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে আটকাপড়া ২৬ হাজার মেট্রিক টনের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মালামাল নিলাম ও ধ্বংসযোগ্য। নিলামযোগ্য এসব পণ্য যথাসময়ে বন্দর থেকে খালাস নিলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বহুলাংশে বেড়ে যেত।
এ ব্যাপারে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল বলেন, বন্দর থেকে পণ্য চুরি এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানির কারণে অনেক আমদানিকারক মালামাল খালাসের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এছাড়া ভারতে ডলার পাচারের সঙ্গে জড়িত এক শ্রেণির অসাধু আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণায় নিম্নমানের মালামাল এনে বন্দর শেডে অহেতুক বছরের পর বছর ফেলে রাখে। এ কারণে পণ্যজট বাড়ছে।
বেনাপেল বন্দরের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে ভারত থেকে এক লাখ ৭০৮ ট্রাকে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের মালামাল আমদানি হয়েছে। একই সময় এক লাখ ২১ হাজার ৬৬টি ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা হয়েছে ১৪ লাখ ৪ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন মালামাল।
/জেবি/এসটি/








