দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) উদ্যোগে দেশের সর্বপ্রথম বিশেষায়িত ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলার ২নং সুন্দরবন ইউনিয়নের বীরগা গ্রামের ফুলবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকজন কৃষকের গরুর অস্ত্রপ্রচার ও চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ এই ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়।
কৃষক আনিছুর রহমানের একটি গরুর ঝংকা (আপওয়ার্ড প্যাটেলার ফিক্সেশন) রোগের অপারেশন করাসহ মোট ৩টি গুরুর বিভিন্ন রোগের অপারেশন করা হয়। এসময় কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘সাধারণত কোনও পশুর রোগ হলে আমাদের কয়েক কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এখন থেকে হাসপাতাল আমাদের বাড়িতে আসবে, বিষয়টি শুনতে অবাক করার মতো হলেও বাস্তবে দেখলাম। যদি এই কার্যক্রম চালু থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের মতো কৃষকরা উপকৃত হবে।
এলাকার মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘কোনও গরু বা ছাগলের রোগ হলে তাকে আবার হেঁটে হেঁটে পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যেতে হয়। অনেকক্ষেত্রেই আবার সেই প্রাণীটি আরও বেশি অসুস্থ্য হয়ে যায়। আবার যেসব প্রাণীর সমস্যা বেশি মনে হয়, সেগুলোকে কসাই কিংবা কারও কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি এভাবে হাসপাতালে খবর দিলে তারা বাড়িতে এসে পশুর অপারেশনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখে, তাহলে সেটি অবশ্যই আনন্দের। বিষয়টি শুনে আমি এখানে এসেছি এবং সেটি বাস্তবে দেখলাম।’
মাহবুবুর রহমান নামের একজন কৃষক জানান, ‘দেখলাম, খুব ভাল করেই আমার গরুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হলো। এটি অবশ্যই ভাল উদ্যোগ।’ এজন্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
একই এলাকার আব্দুস সামাদ বলেন, ‘হাসপাতাল বাড়িতে আসছে। যাতে করে কষ্ট করে হাসপাতালে যেতে হবে না, টাকা পয়সা কম খরচ হবে। অবশ্যই এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ক্লিনিকের সামনে দেশের সর্বপ্রথম ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিকের গাড়ির উদ্বোধন করেন বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক, অ্যাগ্রিকালচার অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান, জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার, ভেটেরিনারি অনুষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. তাহেরা ইয়াসমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘এই কার্যক্রমটি চালু করা হয়েছে মূলত কৃষকদের কথা ভেবে। যাতে করে কৃষকরা স্বল্প মূল্যে একটি সেবা পান। গৃহপালিত এসব প্রাণীর চিকিৎসা সাধারণত হাসপাতাল ছাড়া হয় না, তবে এখন থেকে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই হাসপাতালটি তাদের কাছে পৌঁছাবে। পাশাপাশি এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকরা থাকবেন, যাতে চিকিৎসা পেতে কোনও সমস্যা না হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছি, তার মধ্যে এটি অন্যতম। ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক (বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স) একটি নতুন ধারণা। মানুষের মতো করে প্রাণীরাও যাতে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেলক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশে প্রথম। উদ্বোধনের পরই এর কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিকের দ্বারা এই অঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা রাখছি।’
তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষক সেবাকেন্দ্র, মৎস্য হ্যাচারি, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্মের উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষক সেবাকেন্দ্র এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণসহ তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ প্রাণী চিকিৎসালয়ও শুরু হলো।’








