মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে ফুল দিয়েই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানান তারা।
প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান। তবে রবিবার ভোররাত থেকেই বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নামে লাখো মানুষের ঢল।
বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, জাতিকে মেধাহীন করার হীন উদ্দেশ্য নিয়েই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালায়। যার ফলে জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ এবং পথ অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ হোক আমাদের ভবিষ্যৎ চলার পাথেয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে বলেছেন, জামায়াত ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ ছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘পরাজয়ের প্রতিশোধ’।
যুদ্ধাপরাধের সব রায় কার্যকর করার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও ষড়যন্ত্রই জাতিকে এ পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। মানবতাবিরোধীদের যারা রক্ষার অপচেষ্টা করছে, তাদেরও একদিন বিচারের আওতায় আনা হবে। এসব রায় বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে।’
বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর একটি বেদনাময় দিন। বাংলাদেশকে মেধা-মননে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয়ের ঊষালগ্নে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করোছিল। তারা মনে করেছিল, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মেধার উৎকর্ষহীনতায় নেতৃত্বহীন হয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু তাদের সে লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও নানা কর্মসূচিতে বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
/এসটি/








