ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ সংঘর্ষে কমপক্ষে নয় জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দু’পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
বিবদমান দুটি পক্ষের একপক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী। অন্যপক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী বলে জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আহতদের মধ্যে নওফেল গ্রুপের ছয় জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন– কলেজের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরাফ ইসলাম, ৬০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দাশ, একই ব্যাচের শামীম আহমেদ ফাহাদুল ইসলাম, ৬১তম ব্যাচের সাজেদুল ইসলাম হৃদয় ও একই ব্যাচের মাশফী জুনাইদ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কথা কাটাকাটির জের ধরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের মারামারিতে আট-নয় জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে কেউ গুরুতর আহত হননি। এ ঘটনায় পুলিশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে নওফেল গ্রুপের কর্মী অভিজিৎ দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে হাসপাতাল ভবনে ক্লাসে যাওয়ার সময় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ইসলাম শিমুল আমাদের দুই কর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘটনার পর আমরা বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে অবহিত করি। আজ তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে আমাদের ডেকেছিলেন। কথা বলে বের হওয়ার সময় আবারও তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমরা ছয় জন আহত হয়েছি।’
এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ইসলাম শিমুল বলেন, ‘জুনিয়র কয়েকটা ছেলে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছে। বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় গতকাল চতুর্থ বর্ষের রিয়াজুল ইসলাম জয়সহ তাদের ডেকে শাসন করেছিলাম। বহিরাগতদের কারণে যেন ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট না হয় সেজন্যই তাদের বকা দিয়েছি। পরে আমরা বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারকে বলেছি। অধ্যক্ষ স্যার তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন। এরপর তারা অধ্যক্ষ স্যারের কক্ষ থেকে বের হয়ে আসার সময় আমাদের কয়েকজন জুনিয়রের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’








