ভারত রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাস পর দেশের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকাল থেকে হিলি, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দরগুলো দিয়ে দেড় শতাধিক পেঁয়াজভর্তি ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করে।
হিলি প্রতিনিধি জানান, রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এদিকে, দীর্ঘদিন পর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ হারুন ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মাহবুব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভারত সরকার রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক আবেদন করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ৪/৫ জন আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছি। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ায় আজ (রবিবার) সকাল থেকে ভারতের হিলি কাস্টমসে পেঁয়াজ রফতানির উদ্দেশ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিকেল পৌনে ৪টায় পেঁয়াজ রফতানি শুরু হয়। এ পর্যন্ত আমরা খবর পেয়েছি, ভারতের হিলিতে ২৫/৩০ ট্রাকের মতো পেঁয়াজ এসেছে, যা ভারতের হিলি পার্কিংয়ে অবস্থান করছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৪টি ট্রাকে ৯২ টন পেঁয়াজ ঢুকেছে। পর্যায়ক্রমে বাকি পেঁয়াজগুলো দেশে প্রবেশ করবে। আর দীর্ঘদিন পর আমদানি শুরু হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামের যে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা দাঁড়িয়েছিল, সেটি কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।
এদিকে, হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজভর্তি ট্রাক ঢুকলেও এখনও ক্রেতা পাননি আমদানিকারকরা। এ বিষয়ে আমদানিকারক মাহবুব হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য টনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার দরে এলসি খুলেছি। ফলে আমাদের আনা পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে ২১ থেকে ২৫ টাকার মতো। এরসঙ্গে গাড়িভাড়াসহ অন্য খরচ ও লভ্যাংশ যোগ করলে আমাদের আমদানির পেঁয়াজের দাম পড়বে ৩০ টাকার মতো। বাজারে এ মুহূর্তে দেশি পেঁয়াজ উঠছে। তাই এখন পর্যন্ত কোনও ক্রেতা আসেনি। আশা করছি ক্রেতা পাওয়া যাবে।
বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়েও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪ টার সময় ৩টি ট্রাকে ৯১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে। দুটি কনসারমেন্টে এই পেঁয়াজ আমদানি হয়।
এর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো খুলনার হামিদ এন্টারপ্রাইজ ও মাহি অ্যান্ড মাহিবি এন্টারপ্রাইজ। এরমধ্যে হামিদ এন্টারপ্রাইজ ৬৩ মেট্রিক টন এবং মাহি অ্যান্ড মাহিবি এন্টারপ্রাইজ ২৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে ৩০৫ ডলারে।
খুলনার হামিদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল হামিদ জানান, দেশে এবার প্রচুর পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। দামও অনেক কম। ছোট একটি এলসি দিয়েছি। যার বিপরীতে আজ রবিবার (১৫ মার্চ) ৬৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কোয়ারেন্টাইনের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার ভারত থেকে ৯১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি ভারতে উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং সরবরাহ বাড়ায় ২৬ ফেব্রুয়ারি পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ২ মার্চ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ রফতানির কথা বলা হয়।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় পয়েন্ট হচ্ছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর। প্রথম দিনে এই বন্দর দিয়ে ৮৮ ট্রাকে পেঁয়াজ প্রবেশ করেছে। এতে ১ হাজার ৯৩৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
সাতক্ষীরা ভোমরা শুল্ক স্টেশন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক খোরশেদ বলেন, দেশের অন্য সব স্থল বন্দরের চেয়ে ভোমর বন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ প্রবেশ করে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। এর পাঁচ মাস পর ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর আজ থেকে আবারও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ৩২ টাকায় ভারতীয় স্থানীয় হাঁসখালি পেঁয়াজ কেনা পড়েছে। ৩৫০ ডলারে এলসি খোলা হয়েছে। আমরা যারা শুধুমাত্র পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ছিলাম তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ভারত সরকার পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে এতে করে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেবে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আজ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা বন্দরে প্রবেশ শুরু হয়েছে। কলকাতা থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় এই পেঁয়াজ আমদানির সবচেয়ে বড় পয়েন্ট হচ্ছে ভোমরা স্থল বন্দর। এই বন্দরের অনেক ব্যবসায়ী আছে যারা শুধুমাত্র পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন। ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তারা কিছুটা বিপাকে পড়েন। পেঁয়াজ আমদানি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বন্দরে কিছুটা কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। পেঁয়াজ আমদানি শুরু সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেবে।
সাতক্ষীরা ভোমরা শুল্ক স্টেশন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রথম দিনে ভারত থেকে ৮৮টি ট্রাকে করে ১ হাজার ৯৩৮ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।








