করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে এবং ভারতে কারফিউ চলার কারণে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধের খবর আসছে। এরইমধ্যে বেনাপোল, হিলি, আখাউড়ার মতো বড় স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আমাদের জেলা ও বন্দর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর−
বেনাপোল
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লকডাউন করে দেওয়ায় সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আজ বিকাল ৫টা থেকে আগামী ২৭ মার্চ বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই লকডাউন।
গতকাল রবিবার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, লকডাউনের সময়ে কলকাতাসহ অন্য শহরগুলোতে আপৎকালীন পরিষেবা বাদ দিয়ে বাকি সবকিছু বন্ধ হচ্ছে।
ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, রাজ্য সরকার কলকাতাসহ আশপাশের শহরগুলোতে ২৩-২৭ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করায় সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিদুল ইসলাম জানান, ‘সকাল থেকেই দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও আদেশ আমি পাইনি।’
হিলি
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভারতে জনতার কারফিউ চলার কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের ভেতরের কার্যক্রম ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার চালু রয়েছে। হিলি স্থলবন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক অশিত স্যানাল বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলা হিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব শাহিনুর ইসলাম জানান, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রবিবার সকাল থেকে ভারতজুড়ে জনতার কারফিউ চলছে। এ উপলক্ষে বন্দর দিয়ে কোনও পণ্য রফতানি বা আমদানি না করার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।’
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি সেকেন্দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের অভ্যন্তরে আটকে পড়া যাত্রী পারাপার চালু রয়েছে। তবে নতুন করে কোনও পাসপোর্ট এন্ট্রির মাধ্যমে যাত্রী পারাপার করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
করোনো ভাইরাসের ঝুঁকি এবং ভারতে কারফিউ থাকার কারণে রবিবার সকাল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। যদিও সোমবার তা ফের চালু হয়। তবে আবার যে কোনও সময় এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানান আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান।
এদিকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রবিবার সকাল থেকে সব বিদেশি নাগরিকের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ ২২ মার্চ থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র আগে থেকে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা প্রবেশ করছেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়রা নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের নাগরিক যারা নিজ দেশে প্রবেশ করছে, তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে তাদের শরীরে বিশেষ সিল লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর করা থাকবে।
কুমিল্লা
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানিও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারত সরকার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করলে এই স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার (২২ মার্চ) এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জারি হয়। বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রকোপ যেন না বাড়ে, সেই লক্ষ্যে ভারত সরকার আমদানি-রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ কারণে বিবিরবাজার বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ যখন নির্দেশ দেবে তখন বন্দরের কার্যক্রম আবার শুরু হবে।
সাতক্ষীরা
ভারতে জনতা কারফিউ ঘোষিত হওয়ায় রবিবার থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনও মালামাল আমদানি-রফতানি হয়নি বলে জানিয়েছেন ভোমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম। তবে সোমবার থেকে ফের আমদানি-রফতানি শুরু হবে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সরকার জানান, সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশে আটকে থাকা পাসপোর্ট যাত্রীদের আসা-যাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও দুই দেশেই নতুন করে কোনও যাত্রীকে ঢুকতে দিচ্ছে না। এ কারণে যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে।








