গাজীপুরে রবিবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত মোট ২৩ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে গত শনিবার ও রবিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। আক্রান্ত মোট ২৩ জনের মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা ৯ জন, গাজীপুর সদর ও মহানগর এলাকার বাসিন্দা ৯ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ৫ জন। গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডা. খায়রুজ্জামান জানান, ঠান্ডা ও জ্বরের উপসর্গ থাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক নৈশ প্রহরীকে তার গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ায় হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ না থাকায় গত বুধবার তিনি অফিসে ফিরে আসেন। তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ
নিশ্চিত হতে গত শুক্রবার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার পাঠানোর পর শনিবার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। তার সংস্পর্শে আসায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সিভিল সার্জন এবং তার অফিসের ইপিআই সুপারিন্টেনডেন্ট, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (ডিএসআই) ও প্রধান অফিস সহকারী (ইউডিএ)-সহ ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সরকারি বাসাতে কোয়ারেন্টিনে থেকেই কাজ করছেন তারা। এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সবাই সুস্থ আছেন।
এদিকে, গাজীপুরের কাপাসিয়ার দস্যু নারায়ণপুর গ্রামের ছোঁয়া অ্যাগ্রো ফিড মিল লিমিটেড কারখানায় কর্মরত আরও ৬ শ্রমিকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ওই কারখানায় মোট ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। আর কাপাসিয়ায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ জন। কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সরকার এ সব তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই কারখানার একজন শ্রমিকের করোনাভাইরাস শনাক্তের পর কারখানার অন্য শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করে। শনিবার (১১ এপ্রিল) উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ জন কর্মী কারখানার ভেতরে থাকা ১৩০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) তাদের মধ্যে ৬ জনের করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সালাম সরকার জানান, নতুন আক্রান্ত সবাই ছোঁয়া অ্যাগ্রো ফিড মিল লিমিটেডের শ্রমিক। আক্রান্ত ওই ৬ জনকে কারখানার তিন তলার একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার ওই কারখানার একজন শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ পাওয়ায় কারখানা ও দস্যুনারায়ণপুর গ্রামটি লকডাউন করা হয়।
এদিকে, রবিবার (১২ এপ্রিল) অবশিষ্ট ৩৫ জন শ্রমিক এবং শুক্রবার কাপাসিয়ায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের ৫ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে রবিবার ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৩০ জনের করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) তাদের এবং ছোঁয়া অ্যাগ্রো ফিড মিল লিমিটেড কারখানার বাকি ১৯ জন শ্রমিকের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে।
ছোঁয়া অ্যাগ্রো ফিড মিল লিমিটেডের ৭ শ্রমিক ছাড়াও আক্রান্ত অপর দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে। তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অপরজন ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। শনিবার সন্ধ্যা থেকে তাদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, লকডাউন করা কারখানা ও দস্যুনারায়ণপুর গ্রামে পুলিশ পাহারায় রয়েছে। কারখানা বাইরে থাকা শ্রমিকদের নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








