গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিনারা বেগম (৬০)। স্বামী নেই। সন্তান থাকেন যশোরে। বাসায় একাই ছিলেন। ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল আগে থেকেই। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শরীর খারাপ লাগলে প্রেসার (রক্তচাপ) মাপতে বাসার সামনের ফার্মেসিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফার্মেসিতে ঢোকার আগেই দরজার বাইরেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। মুখ দিয়ে ফেনা বের হয় তার। কিন্তু করোনা সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে সাহায্য করতে। উল্টো ভয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। বৃদ্ধার প্রাণহীন দেহটা সারা রাত পড়ে ছিল ফার্মেসির সামনের সড়কে। পরে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না মিনারা বেগমের। জ্বর-সর্দি-কাশি কিছুই ছিল না তার।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়ে আমিসহ (কাউন্সিলর) স্থানীয় নেতাকর্মী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অবগত করা হয়। রাত দেড়টার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি দল এসে নিহত নারীর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আজ বুধবার প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে লাশটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক টঙ্গীর খাঁ পাড়া এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হকসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেউ স্বাভাবিকভাবে মারা গেলেও সবার মধ্যে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাজ করে। নিহত এই বৃদ্ধের বেলায়ও তাই হয়েছে। তারপরও মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা সার্বক্ষণিক লাশের তদারকি করেছি। রাতেই খবর দিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছি। এখন সবার সম্মতিক্রমে লাশ দাফন-কাফন করা হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আকতার হোসেন সরকার বলেন, ‘লাশটি ফার্মেসির ঠিক দরজার সামনেই পড়ে ছিল, রাস্তার পাশে নর্দমার ঢাকনার ওপর। লাশটি একটি সাদা চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। নিহত ওই বৃদ্ধের আগে থেকে জ্বর, সর্দি বা কাশি ছিল না। আমরা এ বিষয়টি একটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সবাইকে অবগত করেছি, যাতে কোনও আতঙ্ক না ছড়ায়।’
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, ‘এলাকাবাসী ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে থেকে ওই নারীর করোনাভাইরাসের কোনও উপসর্গ ছিল না। প্রেসার মাপতে এসে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে এই ঘটনা ঘটে। তারপরও এটা নিয়ে যেহেতু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় তৈরি হয়েছে, তাই লাশটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’








