করোনায় ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের জন্য দেওয়া সরকারি ত্রাণের ২৭টি স্লিপ ২৭শ' টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলীর বিরুদ্ধে। তবে তিনি বলেছেন, 'তেলের খরচ হিসেবে কিছু টাকা নিয়েছি। তবে তা মাত্র ১৫টি স্লিপ বাবদ। আপনারা বললে তাদের টাকা দ্বিগুণ হারে ফেরত দেবো।'
জানা গেছে, টাকা না দেওয়ায় যেমন ত্রাণ পাননি অনেকে, তেমনি টাকা দিয়েও স্লিপ না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয় মঙ্গলবার। ওই ত্রাণের প্রায় ২৫টি স্লিপ বিতরণ করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও হাজারীহাট মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদ্রাসার জীববিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক আজম আলী সরকার। এই ত্রাণের স্লিপ দেওয়ার জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে একশ' টাকা করে আদায় করেন। কিন্তু স্লিপ দেওয়ার সময় ২৫টি স্লিপ বিতরণ করা হলেও বাকি দুজনের স্লিপ দেওয়া হয়নি। যারা স্লিপ পাননি তারা হলেন আতিউরের স্ত্রী মমতা ও আশরাফের স্ত্রী শরিফা বেগম।
এছাড়া টাকা না দেওয়ায় স্লিপ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলমের স্ত্রী শিল্পী। তিনি বলেন, 'আজম বলেছে- যে টাকা দেবে, সে স্লিপ পাবে। ত্রাণ নিতে হলে টাকা দিয়েই স্লিপ নিতে হবে।'
ওই এলাকার টাকা দিয়ে স্লিপ নেওয়া জিকরুলের ছেলে জিল্লুর, রশিদুলের স্ত্রী সাইতি, আমিনুলের স্ত্রী শাহানা, কাল্টিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা, বাচ্চুর স্ত্রী মিনুসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, 'আজম আলী ১০ কেজি করে ত্রাণ দেবে বলে একশ’ করে টাকা নিয়ে আমাদের স্লিপ দিয়েছে।' তবে ৮ থেকে ৯ কেজি করে চাল পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, 'আমার মেম্বর বা গ্রাম পুলিশ কেউ স্লিপ দিয়ে টাকা নেয়নি। তবে কে বা কারা স্লিপ বিক্রি করেছে, তা আমার জানা নেই।'








