করোনা প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় পুলিশের ধাওয়ায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সিরাজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নঈম মিয়ার বাজারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজুল ইসলাম উপজেলার ধানুয়া কামালপুর এলাকার আক্রাম আলীর ছেলে।
পরে পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে নিহতের স্বজনরা। সেসময় বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ইত্তেফাক পত্রিকার বকশীগঞ্জ সংবাদদাতা এম শাহীন আল আমীন ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়রের লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সকালে নঈম মিয়া বাজারে কৃষক সিরাজুল ইসলাম আলু বিক্রি করতে যান। সেসময় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বাজারে জনসমাগম বন্ধে অভিযান চালায়। ওই অভিযানের সময় পুলিশ লাঠিচাজের্র ভয় দেখিয়ে ধাওয়া করে। আতঙ্কে পালানোর সময় পড়ে যান কৃষক সিরাজুল ইসলাম। পরে ইউএনও জামশেদ খোন্দকার কৃষক সিরাজুল ইসলামকে এসি-ল্যান্ডের গাড়িতে করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় সিরাজুলের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করে। পরে ইউএনও এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। সিরাজুলের মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। এই ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর এবং তার লোকজন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাহীন আল আমীনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক শাহীন এম আল আমীন বলেন, 'পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যই আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। পৌর মেয়র অতর্কিত আমার ওপর হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। তার সহযোগীরা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।'
পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর মারধরের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, 'তাকে ছবি তুলতে নিষেধ করার পরও সে ছবি তুলছিল। তাই তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়।'
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী জানান, সিরাজুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ইউএনও জামশেদ খোন্দকার বলেন, 'অভিযানের সময় পুলিশের লঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি। উনি দৌড়ে পালানোর সময় পরে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হন। পরে আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।'







