রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চুরির মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা আলাল উদ্দিন ওরফে স্বপনকে রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার বাড়ি থেকে ৬৭ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। চাল উদ্ধারের পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল উদ্দিন তার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
আলাল উদ্দিন ওরফে স্বপন গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের পরিবেশক। চাল উদ্ধার করার পর শনিবার রাতেই পুলিশ তাকে আটক করে গোদাগাড়ী থানায় নিয়ে যায়। ওসি জানান, রাতেই তার নামে মামলা করা হয়। রবিবার বেলা একটার দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আলাল উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম সরকার ও গোদাগাড়ী থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ। তারা অভিযান চালিয়ে আলাল উদ্দিন ও তার ভাইয়ের বাড়ি থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৬৭ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কিছু বস্তায় সরাসরি সরকারি সিল দেওয়া ছিল। বাকি চালগুলোর বস্তা পরিবর্তন করা হয়েছিল। মানুষের মধ্যে বিতরণ করার ইচ্ছা থাকলে তো আর বস্তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে না। এই নেতা ও পরিবেশক এলাকার ৫০০ কার্ডধারী মানুষের কাছে বিক্রি করার জন্য ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তার রেজিস্টারে দেখা গেছে, ৫০০ জনের মধ্যে ৪৯২ জনের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়েছে। রেজিস্টারে কিছু ক্রেতার স্বাক্ষরের জায়গা ফাঁকা রয়েছে। আর কিছু স্বাক্ষর দেখেই বোঝা যাচ্ছে জাল।’
ইউএনও জানান, অভিযান চালানোর খবর শুনে স্থানীয় বঞ্চিত লোকজন তার কাছে আসেন। তারা বলেন, তাদের কার্ড অনেক দিন আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের চাল দেওয়া হয় না। একজন বৃদ্ধ লোকও কাঁদতে কাঁদতে এসে একই অভিযোগ করেন। চাল চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আলাল উদ্দিন স্বপন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন বলেও তাদের অভিযোগ।
ইউএনও আরও বলেন, ‘একজন পরিবেশকের নিজস্ব গুদাম থাকতে হবে। গুদামের সামনে সাইনবোর্ড থাকতে হবে। তার এসবের কিছুই নেই। নিজ বাড়িতে সব নিজের মতো করে রেখেছিলেন। বাড়িতে ৩৫টি কার্ড পাওয়া গেছে, যাতে কোনও স্বাক্ষর নেই। আরও প্রায় ১০০টি ফাঁকা কার্ড পাওয়া গেছে, যা ক্রেতাদের দেওয়াই হয়নি।’
আরও পড়ুন: আ. লীগ নেতার বাড়ি থেকে ৬৭ বস্তা চাল উদ্ধার







