টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় পাকা ধানক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে এই ঝড় হয়। টাঙ্গাইল-ঘাটাইল ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সাত থেকে আটটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত ও বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুইটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও বিদ্যুৎ আসেনি। এদিকে, ঝড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বিকালে হঠাৎ করে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ে উপজেলার ইছাপুর, ঘড়িয়া, পটল, সল্লা ও বাংড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ব্রি-২৮ ও ৮৬ পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অচিরেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বাংড়া গ্রামে। এখানে অনেক বাড়িঘর ভেঙে চুরমার হয়েছে। বিভিন্ন বাড়ির ঘরের টিন ধানক্ষেতে পড়ে রয়েছে।’
উপজেলার ঘড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আফাজ আলী, ওয়াজেদ আলী, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, ‘এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে আমরা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। এরমধ্যে ঝড়ে আমাদের পাকা ধান শেষ করে দিলো। এখন আমাদের আর কষ্টের শেষ নেই। না খেয়ে মরতে হবে।’ কালিহাতী ছাড়াও ঘাটাইল ও ভূঞাপুর উপজেলায়ও ধানের ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ ও বাংড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসমত আলী নেতা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা নিপা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাদের এলাকা পরির্দশন করে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। তারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে তালিকা আর ক্ষতির পরিমাণ জানাবেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
কালিহাতী পিডিবি'র নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, 'কয়েকটি স্থানে লাইন বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যেই লাইন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আজকের মধ্যেই লাইনটি চালু করতে পারবো।’








