করোনা প্রতিরোধের জন্য দেশের প্রায় সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আগামীকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এলাকায় চালু হচ্ছে অনেক কারখানা। ইতোমধ্যে মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের মোবাইল ফোনে কল ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন। এদিকে বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসলে তা আবারও ভায়ভহ রূপ নিতে বলে আশঙ্কা করছে শ্রমিক সংগঠনের লোকজন।
সাভারে বসবাসরত একাধিক শ্রমিকরা জানান, করোনায় বন্ধ করার পর আগামীকাল রবিবার থেকে তাদের পোশাক কারখানা চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কারখানা কর্তৃপক্ষ মোবাইলফোনে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই সময় কারখানা চালুর সংবাদে করোনা আক্রান্ত হতে পারেন এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, সাভারের অনেক কারখানার মালিক শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে মালিকপক্ষ। অনেক শ্রমিক এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। আবার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে তাদেরকে চাকরি হারানোর ভয়ও রয়েছে। সেক্ষেত্রে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা রিক্সা, ভ্যান ও ট্রাকে করে ঢাকায় আসবে। এর আগেও একই ধরনের ভুল করা হয়েছিল। তবে এবারও সেই রকম ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। এতে করে শ্রমিকদের জীবন সবচাইতে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের আলাদা করে নিরাপদ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই। একজন শ্রমিকও যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তাহলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার অন্যদিকে শ্রমিকদের কারখানায় কাজে যোগ না দিলে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে এমন ভয় রয়েছে। তাই শ্রমিকের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে তাতেও শ্রমিকদের ঝুঁকি আরো বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে রফিকুল ইসলাম কারখানা চালু না করার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, কালকে অনেক কারখানা চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কি না সে বিষয়ও তারা দেখবেন বলে জানান।








