মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র্যালি করবে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও ছাত্রদল। পাশাপাশি এই র্যালিতে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন। এককভাবে আয়োজিত এই র্যালিতে যোগ দিতে সুযোগ খুঁজছে বিএনপির জোটসঙ্গী একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও দলটির অঙ্গ সংগঠন ছাত্র শিবির। বিএনপি র্যালি আয়োজন করতে মতিঝিল জোনের ডিসির কাছ থেকে ‘মৌখিক অনুমতি’ পেলেও জামায়াত-শিবির কোনও অনুমতি পায়নি। দল দুটির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, মঙ্গলবারই বিজয় দিবসে র্যালি করার বিষয়ে মৌখিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। দলটির সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বুধবার দুপুর আড়াইটায় বিজয় র্যালি করতে মতিঝিল জোনের ডিসি মহোদয় আমাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের র্যালি নয়া পল্টন থেকে শুরু হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে যেন শেষ হয়, এ ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মহান বিজয় দিবসে শান্তিপূর্ণ র্যালি করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-ছাত্রদল
বিজয় র্যালি উপলক্ষে প্রায় এক বছরের বেশি সময় পর প্রকাশ্যে রাজপথে নামছে বিএনপি ও দলটির ভ্যানগার্ড ছাত্রদল। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব হওয়ায় এ র্যালি নিয়ে বিএনপির মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির তিনটি কর্মসূচি পালিত হবে। এর মধ্যে একটি হলো—বিজয় দিবসের ভোরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ। এরপর দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধা এবং সবশেষে বিজয় র্যালি করবে বিএনপি।
ছাত্রদল সূত্র জানায়, র্যালি উপলক্ষে রাজধানীতে অন্ততপক্ষে ১০ হাজার নেতাকর্মীকে উপস্থিত করার নির্দেশনা আছে। বিএনপির বাইরে শুধু ছাত্রদলকে এ জমায়েত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের প্রচেষ্টা কয়েকদিন ধরে চলছে। সব ইউনিটকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মহান বিজয়ের এই দিনে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই, তাদের কারণেই একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। এই দিনটিকে আমরা সম্মান-শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করতে চাই।
এজমল হোসেন পাইলট বলেন, বিজয় র্যালি বিএনপির একক কর্মসূচি। এটিকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্লোগানসমৃদ্ধ ব্যানার, ফেস্টুন, বেলুন তৈরি করছি। তিনি জানান, আমাদের চেষ্টা অনেক কালারফুল একটা র্যালি আয়োজন। প্রশাসন সহযোগিতা করলে আমরা এটা দেখাতে পারব।
জানা গেছে, আগামীকাল বিকাল তিনটায় র্যালি শুরু করবে বিএনপি। এতে দলটির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে র্যালিটি মালিবাগেই শেষ করতে চায় তারা।
সুযোগ খুঁজছে জামায়াত-শিবির-প্রয়োজনে ঝটিকা র্যালি
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে র্যালি করতে সুযোগ খুঁজছে জামায়াত-শিবির। মূলত অন্য বছরগুলোয় র্যালি করেছে ছাত্র শিবিরই। তবে এবার বিএনপি র্যালি করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হওয়ায় এ সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চায় তারা। তবে ইতোমধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের র্যালির প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়েছে।
ঢাকা কলেজ ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, র্যালি হবে, র্যালির প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। কোথায়, কখন হবে, সেটিও বলা হয়নি। বিএনপির র্যালির সময় রাজপথেই থাকতে বলা হয়েছে।
তবে ছাত্রদল সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট জানিয়েছেন, বিজয় র্যালি আয়োজন বিএনপির একক। ২০ দলীয় জোটের কাউকে র্যালিতে থাকতে বলা হয়নি। আমরাও বলিনি কোনও ছাত্র সংগঠনকে। ফলে, এটি একমাত্র বিএনপি ও সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনের।
এদিকে, ছাত্র শিবিরের একজন নেতা জানান, বিএনপির র্যালিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা এখনও (সন্ধ্যা-৬-৩৫) জানি না। তবে শিবির সব সময় র্যালি করে। এবারও বিজয় র্যালি করবে। তবে সময় ও স্থান নির্ধারণ হয়নি।
তবে, গত বছর ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ শাখা পৃথকভাবে বিজয় র্যালি করে। ওই বছর সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভোর থেকে সকাল আটটার মধ্যে বনশ্রী, ধানমণ্ডি ১৫, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা-বিশ্বরোডে র্যালি করে। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা এসব র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। এ বছরেও ওই এলাকাগুলোয় ঝটিকাবাবে র্যালি করার টার্গেট রয়েছে সংগঠনটির।
এক্ষেত্রে, দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পল্লবী, গাবতলী, টিকাটুলি, কমলাপুর, মালিবাগ, মগবাজার-রেলগেইট এলাকায় ঝটিকা র্যালি করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিবিরের ঢাকা মহানগর উত্তরের এক নেতা। এ নিয়ে যোগাযোগ করলে ছাত্র শিবিরের প্রচার বিভাগের দুই দায়িত্বশীলের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে, বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বিবৃতি দিয়েছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জাতি এমন এক সময় মহান বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাতির ঘাড়ে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে এক স্বৈরশাসক চেপে বসেছে। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ অবস্থা থেকে জাতিকে উদ্ধার করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।
/এমএনএইচ/








