দৌলতদিয়া ঘাটে আজও ঢাকামুখী মানুষের ঢল

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
২৯ এপ্রিল ২০২০, ১৪:১৫আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২০, ১৪:২৪

ফেরিতে গাদাগাদি করে পার হচ্ছেন বহু মানুষ করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই জীবিকার তাগিদে কর্মস্থল ঢাকায় ছুটছে মানুষ। গত কয়েক দিনের মতো আজও (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল। ভিড়ের মধ্যেই গাদাগাদি করে ফেরিতে নদী পার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি এতে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার।  তবে দুপুরের দিকে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ভিড় কমেছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বন্ধ রয়েছে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস আদালত। তবে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গার্মেন্টস কারখানা খোলা থাকার সিদ্ধান্তে দৌলতদিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের ঢল শুরু হয়।

ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সীমিত আকারে পাঁচটি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। এসব ফেরিতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে কর্মস্থলে ফেরা মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে গাদাগাদি করে নদী পার হচ্ছে। এতে করোনা ভাইরোসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। গত ২৬ এপ্রিল বিআইডব্লিউটিসির দুই কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সংস্থাটিতে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ফেরি থেকে নেমে আসা যাত্রী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকামুখী যাত্রীরা জানান, পেটের ক্ষুধার কাছে করোনাভাইরাস কিছুই না। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও যেতে হবে ঢাকার কর্মস্থলে। না যেতে পারলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুন্নাফ বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নৌযানে যাত্রী পারাপার ঠেকাতে আমরা চেষ্টা করছি। হঠাৎ করেই ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে। আমাদের লোকবল কম থাকায় যাত্রী পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, ‘সরকারি আদেশে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়েছে। কিন্তু মানুষের চাপে আমরা ঠিকমতো পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তারা সবাই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অনান্য ছোটখাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে তাদের পারাপার এভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। মানুষকে সচেতন হতে হবে। ’

 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম