সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন নতুন সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ক্ষতি দেখছেন না সামরিক বিশ্লেষকরা। এতে অর্জন যাই হোক, ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে মনে করেন তারা। সরকারও মনে করছে এ জোটে অংশ নিলে বাংলাদেশই লাভবান হবে।
সামরিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, এ জোট গঠনের পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছাই প্রকাশ পেয়েছে। দেশগুলো মনে করছে, ইসলামের নামে বিশ্বে এখন সন্ত্রাস চলছে। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বা দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতেই জোটটি গঠন করেছে। যেখানে নৈতিকভাবে সমর্থন জানিয়ে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশও।
তিনি বলেন, এমন একটি সামরিক জোটকে সক্রিয় করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। জোটে থাকা কিংবা জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর ভৌগলিক অবস্থান ও ঝুঁকির মাত্রা হিসেবে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা বিভিন্ন রকম হবে। এখানে সবাই সামরিক জোটে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে বলে মনে হয় না। সামরিকভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ জোটে বাংলাদেশকে দেখা যাবে বলেও মনে হয় না। এটি মনস্তাত্বিক শক্তি দেওয়ার কাজেই বেশি ব্যবহার হবে।
তার মতে, মুসলিম দেশগুলো যে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বকে তা জানাতেই সম্ভবত এ জোট করা হয়েছে। অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে অংশীদারিত্ব আছে, তার অংশ হিসেবে এ জোটে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ।
মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বে ৬৫ দেশের আইএসবিরোধী যে জোট আছে সেখানেও গুটিকয়েক দেশ ছাড়া অন্যদেশগুলোর শুধু নৈতিক সমর্থনই আছে, সক্রিয়ভাবে নয়। এক্ষেত্রে সমস্যার মূল কেন্দ্র ইরাক ও সিরিয়াকে ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর যতো আগ্রহ থাকবে, স্বভাবতই দূরের দেশগুলোর সেই আগ্রহ থাকবে না।
এ জোটে অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, এখানে ঝুঁকির বিষয়টি হালকাভাবে দেখছি। কারণ, যতক্ষণ না আইএস-এর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হয়তো আইএস-এর আক্রোশের লক্ষ্যবস্তু হবে না বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে যেসব দেশে আইএস আক্রমণ চালিয়েছে, সেসব দেশ সক্রিয়ভাবে আইএস-এর বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এই জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাতে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল বিন আহমেদ আল-জুবাইর। তাদের অনুরোধে আমরা প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছি। এ সামরিক জোটের যৌথ অপারেশন সেন্টার হবে রিয়াদে।
তিনি বলেন, এ জোটের মূল উদ্দেশ্য সদস্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা, তাদের তথ্য, নিজস্ব পলিসি ও মেকানিজম একটি দেশ আরেকটি দেশের সঙ্গে বিনিময় করবে।
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, সমন্বিত জোটে লাভবান হবে সবাই। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আইএসের সঙ্গে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে- এই উদ্যোগ কিন্তু এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সেই অবস্থানের পরিবর্তন বাংলাদেশের হচ্ছে না। তবে ছোট ছোট প্ল্যাটফর্মে যেগুলো থাকে সেগুলোকে আরও বড় প্লাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য ওআইসিভুক্ত সকল মুসলিম রাষ্ট্রকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশকে এ জোটে আমন্ত্রণ জানানোর কারণ হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির সুফল যে বাংলাদেশ পেয়েছে, সে কারণেই হয়ত বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
/এমআর/এফএ/








