প্রতিবছর রমজান মাসে মসজিদগুলো ভরে ওঠে নামাজিতে। তারাবির নামাজের জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন-হাফেজদের আগে থেকেই বলে রাখতে হয়। ধর্মীয় রীতি অনুসরণের পাশাপাশি একটি সামাজিক পরিবেশও সৃষ্টি হয় মসজিদে। সেই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন-হাফেজদের জন্য বিশেষ হাদিয়াও বরাদ্দ থাকে। স্থানীয়রাই এই অর্থের জোগান দেন। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার মসজিদে যাতায়াত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তারাবির নামাজে কমে গেছে মুসল্লি। তাই ব্যতিক্রমী সংকটে পড়েছেন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও হাফেজরা।
জানা গেছে, এবারের রমজানে পঞ্চগড়ের প্রায় দুই হাজার হাফেজ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান মাসে স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদ কমিটির মাধ্যমে দু’হাত ভরে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দিয়ে থাকেন। অনেক মসজিদে তারাবির নামাজে হাফেজরা এক মাস ইমামতি করে। এ সময় তারা নামাজে কোরআনের ত্রিশ পারা পাঠ করেন। একে বলা হয় খতমে কোরআন। হাফেজরা তাই তারাবিকে তাদের কোরআন চর্চার বিশেষ মাস হিসেবে দেখেন । সেই সঙ্গে প্রত্যেক মসজিদ থেকে তাদের সম্মানীও দেওয়া হয়। সেই অর্থ দিয়েই তারা পরিবার নিয়ে ঈদ উৎসব করেন। সংসারের খরচও মেটান। কিন্তু এ বছর করোনা মোকাবিলায় সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।
পঞ্চগড় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, এই জেলায় আড়াই হাজারেরও বেশি মসজিদ রয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজারের মতো। অন্যদিকে হাফেজের সংখ্যাও প্রায় পাঁছ হাজার। এই হাফেজরা পঞ্চগড়ের পাশাপাশি অন্যান্য জেলার বিভিন্ন মসজিদে তারাবি নামাজ পড়াতেন। বর্তমানে তারা বেকার।
পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আতাউর রহমান জানান, আমরা সম্মানীর জন্য ইমামতি করি না। কিন্তু মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনরা অন্য কাজ করার সময় পান না। ফলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় যে সম্মানী পাই, তা দিয়ে সংসার চলে। এবারে করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সব পেশার মানুষের মতোই আমরাও সংকটে পড়েছি।
তেঁতুলিয়া উপজেলার কুড়ানুগজ জামে মসজিদের ইমাম মুনশী জবেদ আলী জানান, সরকারি বেতন ভাতাও পাই না। স্থানীয়রা যা সহযোগিতা করেন, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। বর্তমানে খুব সংকটে আছি।
মাঝিপাড়া এলাকার হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মান্নান জানান, রমজান মাসে পবিত্র কোরআন চর্চার পাশাপাশি সম্মানী পাওয়া যেতো। সেই সম্মানী দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করা যেতো। কিন্তু এবার আমরা ভালো অবস্থায় নেই।
পঞ্চগড় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, করোনা মোকাবিলায় ইমাম-মুয়াজ্জিনরা একটু সংকটে আছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সরকারের নির্দেশে ইতোমধ্যে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের তালিকা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে। ত্রাণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।








