মাছ বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় চাষিরা

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
৩০ এপ্রিল ২০২০, ১২:২৫আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১২:৩২

লোকসানে মাছচাষিরা রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকায় গড়ে প্রতিদিন ১৫০ ট্রাক তাজা মাছ পাঠানো হতো। করোনাভাইরাসের দুর্যোগ মুহূর্তে তা কমে ২০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। এতে করে মাছ বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে রাজশাহীর মাছচাষিরা।

জানা গেছে, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ কার্প জাতীয় মাছের চাহিদার পূরণ হয় রাজশাহী থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের মধ্যে পড়ে মাছ বিক্রি করতে না পেরে সংকটে পড়েছেন তারা। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তাদের।

রাজশাহী মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মোট পুকুর আছে ৫০ হাজার। যেখানে মৎস্যচাষি রয়েছেন ১৯ হাজার। রাজশাহীতে বছরে মাছ উৎপাদিত হয় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। যা রাজশাহীর মোট চাহিদার চেয়ে ৩২ হাজার মেট্রিক টন বেশি। গড়ে প্রতিদিন ১৫০ ট্রাক মাছ যায় ঢাকায়। কিন্তু এই মুহূর্তে যাচ্ছে মাত্র ২০ ট্রাক।

মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মাছের ক্রেতা নেই বললেই চলে। ফলে খুব অল্প মাছ পরিবহন করা হচ্ছে। তাও বাধ্য হয়ে কম দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। মাছ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাছচাষি এস্রাফ আলী জানান, ‘৪০০ বিঘার ওপরে একটি পুকুরে মাছ চাষ করি। অন্য সময় প্রতিদিন গড়ে এক ট্রাক তাজা মাছ ঢাকায় পাঠাতে পারতাম। অথচ গত প্রায় এক মাস ধরে ঢাকা থেকে মাছের ক্রেতা পাচ্ছি না।’

মৎস্য চাষি সমসের আলী জানান, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় পর মাছের লিভার ব্লক হয়ে যায়। তখন মাছ আর খাবার খেতে পারে না। তখন ধীরে ধীরে মাছ ছোট হতে থাকে। ফলে আমরা বিভিন্নভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

গোদাগাড়ী পৌরসভার মধ্যে রেলওয়ে বাজার এলাকার মাছের আড়তদার রাজিব হাসান জানান, ‘মাছ কেনাবেচার জন্য আমাদের এখানে আগে দিনে তিন-চার হাজার মানুষের আনাগোনা ছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে একেবারের কাছের কয়েকশ ব্যক্তি আসছেন। ফলে মাছের ক্রয়-বিক্রয় কমে গেছে।’

রাজশাহী জেলা মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা জানান, ‘শুধু মাছ নয়, এই মুহূর্তে সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে অন্য এলাকার মতো রাজশাহীর মাছচাষীরা লোকসানের মুখে পড়বেন। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাছচাষীদের যতোটুকু সহযোগিতা করা যায়, তা সঠিকভাবে তালিকা করে করা হবে।’

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার সামগ্রী ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে কৃষক যাতে উপকৃত হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন রকমের সবজি কিনে ত্রাণ সামগ্রীতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মাছ ও মুরগির বিষয়টিও আমাদের চিন্তাভাবনায় রয়েছে। তবে ডিম ভেঙে যাবে। তাই আমরা ত্রাণ সামগ্রীতে ডিম দেবো না। আমরা এই দুঃসময়ে খাদ্য উৎপাদনকারীদের ক্ষতি কিছুটা হলেও লাঘব করার চেষ্টা করছি।’

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম