করোনার কারণে আর্থিক সংকট কাটাতে সদস্যদের মৃত্যু পরবর্তী সৎকারের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ বিরাজ করছে যশোরের আইনজীবীদের মধ্যে।
আইনজীবীরা বলছেন, তারা বিনাসুদে ঋণের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সমিতি সৎকারের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হটকারী ও মানহানিকর বলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। অবশ্য সমিতির নেতারা বলছেন, এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ভিন্নমতের লোকজন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
করোনার প্রভাবে কর্মহীন দেশের অধিকাংশ মানুষ। সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণাতে আদালত বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়েছেন আইনজীবীরাও। এ অবস্থায় যশোরের অনেক আইনজীবী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে টিকে থাকতে তারা জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে বিনাসুদে ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জরুরি সভা আহ্বান করে সমিতির নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকগণ ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে মতামত দেন। কিন্তু সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এককভাবে সদস্যদের মৃত্যুর পরে সৎকারের জন্য দেওয়া ২০ হাজার টাকার অনুদান থেকে ৭ হাজার টাকা অফেরতযোগ্যভাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এতে করে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সমিতির সদস্য মোস্তফা হুমায়ুন কবির বলেন, এ সিদ্ধান্ত মর্যাদাহানিকর, বেদনাদায়ক। বর্তমান সংকটে সরকার বিভিন্ন পেশাজীবীদের প্রণোদনা দিচ্ছে। সেখানে আমরা ঋণ চেয়েছিলাম। অথচ সমিতির সিদ্ধান্ত হলো সৎকারের টাকা দেওয়ার। মৃত্যুর পরে আমার পরিবার যে টাকা পাবে দাফন কাফনের জন্য তা আমি এখন তুলে খেয়ে ফেলবো? এটা আমার ও পরিবারের জন্য লজ্জাজনক।
শরীফ আব্দুর নূর রেজা নামে অপর এক আইনজীবী বলেন, এটি হটকারী সিদ্ধান্ত। সাধারণ আইনজীবীরা তাদের জমাকৃত টাকা থেকে দুই মাসের জন্য সুদবিহীন ঋণ চেয়েছে। অন্যান্য বারেও এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক গোয়ার্তুমি করে হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা ছোট বলেন, আইনজীবীরা সমিতির বরাবর সুদবিহীন ঋণের আবেদন করেছেন। সমিতির সভায় সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকগণ ঋণের পক্ষে মতামত দেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক সবার মতামত উপেক্ষা করে সদস্যদের মৃত্যুর পর সৎকারের জন্য দেওয়া অনুদান থেকে ৭ হাজার টাকা দিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের জন্য চরম অপমানজনক।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল ইসলাম বলেন, সবার মতামত উপেক্ষা করে সাধারণ সম্পাদক একা সৎকারের টাকা থেকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ আইনজীবীরা এ টাকা নিতে চান না। তারা সকলেই মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় সমিতির সিদ্ধান্ত পরিহার করে বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
অবশ্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, করোনার কারণে আর্থিক সংকটে থাকা সমিতির সদস্যদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সভা হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি দাবি করেন, ভিন্নমতের লোকজন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
এদিকে সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, সভায় যেসব আলোচনা হয়েছে তা এখনও রেজুলেশন হয়নি এবং নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরও করেননি। ফলে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








