আশুলিয়া ও গাজীপুরের আটটি কারখানার শ্রমিকরা ফুল বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। শনিবার (৯ মে) সকালে জামগড়া ও জিরানী এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এই কর্মূসূচি পালন করে। এসময় শ্রমিকরা ৬৫ ভাগ নয় পুরো বেতনের দাবি জানান।
পুলিশ ও কারখানার শ্রমিক সূত্র জানায়, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এ এম ডিজাইন কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে কাজে যোগ দেয়। সকাল ৯টার পরে তারা ফুল বেতনের দাবি জানিয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার বাইরে গিয়ে আব্দুল্লাপুর-বাপইপাল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করতে থাকে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে।
এদিকে এরপর পরই জামগড়া এলাকার এনভয় গার্মেন্টেসের শ্রমিকরাও ফুল বেতনের দাবি জানিয়ে বাইরে বের হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে জামগড়া এলাকার আরও দুটি কারখানার শ্রমিকরাও ফুল বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে।
অন্যদিকে গাজীপুরে অবস্থিত ডরিন গ্রুপের তিনটি কারখানার প্রায় চার হাজার শ্রমিকরা আশুলিয়ার জিরানী এলাকায় সকাল ছয়টার পরেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তারা বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া ও ফুল বেতনের দাবি জানান। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শ্রমিকরা বলেন, 'গতকাল শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতনের পে স্লিপ দেয়। ওই স্লিপে শ্রমিকদের ফুল বেতন না দিয়ে কম বেতন দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এর পরপরই শ্রমিকরা কাজ না করে ভেতরেই কর্মবিরতি পালন করতে থাকে। পরে কারখানা ছুটির পর শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায়। এদিকে গতকাল রাতেই বিভিন্ন শ্রমিকদের মুঠোফোনে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে ছয়টার পর শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালন করে। এসময় ডরিন গ্রুপের শ্রমিকরা আশুলিয়ার আরও দু-একটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে ওইসব কারখানার শ্রমিকরাও বেরিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।'
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, '৬৫ শতাংশ বেতন দিয়ে তাদের বাড়ি ভাড়া, দোকানের বাকি পরিশোধ করা অসম্ভব। এ কারণেই তারা পুরো বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। এছাড়াও অনেক বাড়িওয়ালা পুরো মাসের ভাড়া দাবি করবেন।'
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, 'শিল্প পুলিশ আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এলাকায় সকল বাড়ির মালিকদের ৬০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।' বাড়ি ভাড়া কম নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ ঢাকা-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম খান বলেন, 'ফুল বেতনের দাবিতে ৭ থেকে ৮টি কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসে। পরে তাদের বুঝিয়ে ও ৬০ ভাগ বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা জানানো হলে শ্রমিকরা চলে যায়। এছাড়াও যে কোনও অপ্রিতীকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।'








